অসুস্থ সম্পর্ক!

যেকোনো সম্পর্কের ক্ষেত্রে আমরা নানা ধরনের বুলি আওড়াই। বিশেষ করে ভালোবাসার ক্ষেত্রে বহুল প্রচলিত লাইন, ‘ভালোবাসা অন্ধ হয়’ এই কথা তো সবারই জানা। তবে ঠিক যে সময়ে আপনি আপনার পাশের মানুষকে ‘অন্ধ’ করে দিতে চাইবেন, তখনই ব্যাপারটি ঠিক ভালোবাসা কি না এই নিয়ে সন্দেহ চলে আসে। অনেক সময় আমরা একে ‘কেয়ার’ হিসেবে চালিয়ে দিতে চাই, কিন্তু আসলে তা একটা অস্বাভাবিক কিংবা অসুস্থ সম্পর্কের নমুনা।

যেকোনো সম্পর্কই একটা সমান্তরাল পদ্ধতিতে চলে। যেকোনো একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলে অপরটি স্বাভাবিকভাবেই মুখ থুবড়ে পড়ে। আমরা বেশির ভাগ সময়ই মনের অজান্তে এমনটা করি।

তাই দেরি হয়ে যাওয়ার আগে কীভাবে বিষয়টি সামলে নেব, সে সম্পর্কে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক মেখলা সরকার কিছু সহজ উপায় অবলম্বনের কথা বলেছেন। তিনি বলেন, ‘যেকোনো সম্পর্কেই সবচেয়ে প্রয়োজনীয় বিষয় হলো, একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া। অনেক সময় আমরা আমাদের সঙ্গীর ব্যবহারে কিংবা কাজে অসন্তোষ থাকি। সে ক্ষেত্রে রেগে না গিয়ে শান্ত থেকে অপরকে বুঝিয়ে বলতে হবে। অভিযোগের সুরে নয় কিংবা কোনো ধরনের মৌলিক জায়গায় আঘাত করে নয়, বরং বিষয়টি আমাদের শান্তিপূর্ণভাবে মিটিয়ে নিতে হবে। তবেই সম্পর্কটি কোনো অস্বস্তিকর পরিবেশে গড়াবে না। বজায় থাকবে সুস্থ পরিবেশ।’

চলুন, জেনে নিই মনের অজান্তেই সম্পর্কটি কীভাবে দূষিত হয়ে পড়ে। 

তার বন্ধু, আপনার শত্রু?

আপনি জানেন, আপনার ভালোবাসার মানুষটি একসময় খুব আড্ডাবাজি কিংবা বন্ধুদের নিয়ে মেতে থাকত। সময়ের অভাবে অথবা বিভিন্ন সাংসারিক কারণে তিনি এখন আগের মতো বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাতে পারেন না। হঠাৎ একদিন তিনি হয়তো তার বন্ধুদের সঙ্গে কোনো পরিকল্পনা করলেন কিংবা ঘুরতে গেলেন। কিন্তু আপনি বিষয়টা মেনে নিতে পারলেন না এবং তাকে সেটা বুঝিয়েও দিলেন আপনার কথাবার্তা বা হাবভাবে।

এমনটা যদি এক দিন দুদিন হয়, তবে বিষয়টা স্বাভাবিক। কিন্তু আপনি যদি সব সময়ই তাদের (সঙ্গীদের) সামনে অথবা আপনার সঙ্গী বাড়িতে ফেরার পর তার সঙ্গে খুব বাজে ব্যবহার করেন, তা সম্পর্কে সমস্যা তৈরি করবে। প্রথম প্রথম বিষয়টি আপনি নানা অজুহাতে এড়িয়ে যেতে পারলেও একসময় এটি তিক্ততার সৃষ্টি করবে। পরবর্তীকালে আপনার সঙ্গী আপনাকে আর আগের মতো কাছের মানুষ বলে মনে করবেন না।

যখন-তখন হিসাব নয়

সংসারের হাজার হিসাব, এমন কথা বহুকাল আগে থেকে প্রচলিত হলেও বর্তমানেও এ কথা সত্য। অনেক সময় দেখা যায়, হুট করে কিছু খরচের খাত তৈরি হয়েছে এবং সে সময় আপনার সঙ্গী আপনার সঙ্গে আলাপ না করেই সেটা খরচ করেছেন। এসব ক্ষেত্রে, আপনি যখন পরবর্তীকালে বিষয়টি শুনছেন, তখন এটি নিয়ে তাকে কথা শোনানো থেকে বিরত থাকুন।

কেননা, এতে করে আপনার সঙ্গী নিজেকে সংসারের বাইরের কেউ মনে করতে শুরু করবেন। নিজেকে তিনি ছোট ভাবতে শুরু করবেন। অপরদিকে, দুজনেই হয়তো আয় করছেন কিন্তু আপনি আপনার সঙ্গীর টাকা কোথায় কীভাবে খরচ করছে তার হিসাব চাচ্ছেন। এটিও দৃষ্টিকটু এবং অস্বস্তিকর পরিবেশের সৃষ্টি করে।

দুজনকেই ছাড় দিতে হবে

আমাদের প্রত্যেকেরই আলাদা কিছু ধরন আছে। যখন আপনি কোনো সম্পর্কে থাকেন, আপনার সঙ্গীর ব্যাপারে আপনার পছন্দের কিছু বিষয় থাকতেই পারে। কিন্তু তিনি কীভাবে, কোন কাপড়টি পরবেন, সে বিষয়ে পরামর্শ দিলেও বাধ্য করতে পারেন না। এই অভ্যাস থাকলে এখনই তা বন্ধ করুন। কেননা, এটি আপনার সঙ্গীর ব্যক্তিস্বাধীনতায় যেমন আঘাত আনে, তেমনি খুব সহজে যেকোনো সম্পর্ক অসুস্থ করে তোলে।

গোপনে যন্ত্রপাতি ঘাঁটা বাদ দিন

প্রত্যেক মানুষেরই একদম ব্যক্তিগত কিছু জায়গা থাকে। অনেক সময় আমরা সেগুলো বুঝতে পারি না। ফেসবুক, মোবাইল ফোন কিংবা ই–মেইল পাসওয়ার্ড একজন আরেকজনকে দিয়ে রাখি। এটি আপনার সম্পর্কে তাকে উৎসাহিত করতে পারে। বাড়িয়ে তুলতে পারে সন্দেহ।

আবার অনেকেই সঙ্গীর অবর্তমানে কিংবা না জানিয়েই সঙ্গীর ফোন বা ল্যাপটপ ঘাঁটেন। কার সঙ্গে কথা হলো, কী বলল বা কেন বলল—এসব প্রশ্ন করা ঠিক নয়। আপনার সঙ্গী আপনার ফোন বা এসএমএসের উত্তর দিতে দেরি করলে আপনি খেপে গেলেন বা কিছুটা কথা শুনিয়ে দিলেন—এই প্রবণতা কোনো কাজের কথা নয়। অনেক সময় আমরা বলি, আমরা আমাদের প্রিয়জনকে নিয়ে চিন্তিত বলেই এমন করি, কিন্তু এটিও আপনার প্রতি আপনার সঙ্গীর বিরক্তির উদ্রেক করে।9*

Leave your vote

Comments

0 comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *