করোনা রোগীদের মধ্যে গুরুতর স্নায়বিক অসুস্থতা পাওয়া যাচ্ছে

যদিও করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে প্রধান জটিলতা শ্বাসকষ্ট, কিন্তু অনেকেরই স্নায়ুজনিত মারাত্মক কিছু উপসর্গ এবং অসুস্থতা দেখা দিতে পারে। যুক্তরাজ্যের হাসপাতালগুলোতে পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা গেছে যে, করোনা আক্রান্ত অবস্থায় অনেক রোগীর স্ট্রোক হচ্ছে। পাশাপাশি তাদের মধ্যে ডিমেনশিয়ার লক্ষণ এবং মানসিক অস্বাভাবিকতা সৃষ্টি হয়। সমীক্ষার ফলাফলগুলো গত ২৫ জুন ল্যানসেট সাইকিয়াট্রিতে প্রকাশ করা হয়েছে।

যুক্তরাজ্যের নিউরোলজিস্টরা পুরো এপ্রিল জুড়ে ১২৫টি হাসপাতালে ভর্তি করোনা রোগীদের ডাটাবেজ পরীক্ষা করে দেখেছেন। ডাটাবেজে দেখা গেছে কোভিড -১৯-এর আক্রান্ত রোগীদের অনেকেই নানাবিধ স্নায়বিক সমস্যাও ভোগ করেছেন। অর্ধেকেরও বেশি রোগীর স্ট্রোক হয়েছে, যার মধ্যে ৫৭ জন রোগীর ইস্কেমিক স্ট্রোক হয়েছে এবং ৯ জন রোগীর হেমোরেজিক স্ট্রোক অর্থাৎ স্ট্রোকের কারণে মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণ হয়েছিলো।

ইউনিভার্সিটি অব লিভারপুলের নিউরোলজিস্ট এবং সিনিয়র লেখক বেনিডিক্ট মাইকেল সায়েন্স নিউজকে বলেছেন, “তুলনামূলক বিরল কিন্তু মারাত্মক গুরুতর এই স্নায়ুবিক জটিলতাগুলো খড়ের গাদায় হারিয়ে যাওয়া সূঁচের মতো চোখ এড়িয়ে যায়।” “এখন যেহেতু আমরা এর গতিবিধি সম্পর্কে মোটামুটি জানি, সেহেতু এই রোগের মেকানিজম সম্পর্কে জরুরি ভিত্তিতে গবেষণা শুরু করা দরকার।”

করোনা রোগীদের মধ্যে মানসিক অবস্থার পরিবর্তন এবং স্নায়ুবিক সমস্যা ছিলো দ্বিতীয় লক্ষণীয় বিষয়। ৩৯ জন রোগী নতুন করে সাইকোসিস এবং অনুভূতি কমে যাওয়াসহ অন্যান্য সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিলেন।

সমীক্ষাটিতে ২৩-৯৪ বছর বয়সী রোগীদের ডাটা পর্যালোচনা করা হয়। সব বয়সের রোগীদের স্নায়ুবিক অবস্থার পরিবর্তন প্রায় একই রকম হলেও ৬০ বছরের বেশি বয়স্কদের স্ট্রোক হওয়ার ঘটনা চারগুণ বেশি ছিলো।

সাউথ ক্যারোলাইনা-মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইকোলজিস্ট এবং স্নায়ু চিকিত্সক মার্ক জর্জ STAT -কে বলেন, “মূলত কিছু কিছু রোগীর মস্তিষ্কের মধ্যে করোনা ভাইরাস ঢুকে যাওয়ার ফলে স্ট্রোকের এই ঘটনাগুলো ঘটছে”।

তবে মানসিক দুরবস্থা কিংবা স্ট্রোকের মতো ঘটনার জন্য করোনা ভাইরাসের পাশাপাশি হাসপাতালের কঠিন পরিস্থিতিকেও আংশিকভাবে দায়ী করা হচ্ছে। নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, হাসপাতালগুলোতে করোনাভাইরাসের বিস্তার কমিয়ে আনার জন্য অনেক পরিবর্তন আনা হয়েছে, যেমন এক জন থেকে অন্য জনে যেন না ছড়ায় সেজন্য স্বাস্থ্যসেবা কর্মীদের মাথা থেকে পা পর্যন্ত সুরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহার এবং দর্শনার্থী প্রবেশ সীমিত করা। এতে হাসপাতালগুলো সাফল্যও পেয়েছে বেশ।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক শ্যারন ইন্যুই নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেন “করোনার কারণে সৃষ্ট মানসিক ভারসাম্যহীনতা ঝড়ের বেগে আসে, যা নিয়ন্ত্রণ করা সত্যিই কঠিন।”নিবন্ধটিতে টেনেসি নামে কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত ৩১ বছর বয়সী রোগীর কথা উল্লেখ করা হয়েছে যিনি নিজেকে জীবন্ত পুড়ে মারা এবং তার উপর বিড়ালের আক্রমনের মতো দৃশ্য চোখের উপর দেখেছেন।

এই দৃশ্যগুলোর অনুভূতি এতটাই জীবন্ত ছিলো যে, এর থেকে নিস্তার পেতে সে ভেন্টিলেটরের টিউব খুলে ফেলেছিলো।
যেহেতু এই সমীক্ষাটি যুক্তরাজ্যের হাসপাতালগুলোর ডাটা বিশ্লেষণ করে করা হয়েছে, সেহেতু বিশ্বজুড়ে ঠিক শতাংশ করোনা রোগী মানসিক ক্লান্তি, ভয় বা আতঙ্ক এবং স্ট্রোকের মতো আরও স্নায়ুবিক সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছেন তা পরিষ্কার হতে আরও গবেষণা প্রয়োজন।

Leave your vote

Comments

0 comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *