কিডনি সুস্থ রাখতে অবশ্যই করণীয় যে ১০টি কাজ

কিডনি আমাদের দেহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোর মধ্যে অন্যতম, তাই কিডনি সুস্থ রাখতে যা যা করণীয় তা আমাদের করতে হবে। কিন্তু আমরা অনেকেই জানি না কিডনি সুস্থ রাখতে কী করা উচিত আমাদের। সারাবিশ্বে প্রতিবছর ৫—১০ মিলিয়ন লোক কিডনি রোগে মারা যায়। বাংলাদেশেও কিডনি রুগির সংখ্যা অনেক বাড়ছে। এ রোগের চিকিৎসায় গুনতে হয় অনেক উচ্চমূল্য। তাই কিডনির সুরক্ষায় সচেতন হওয়া উচিত সবার।

আপনার স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা সব সময় ভাবে দেহ। আজ দেহ’র আয়োজনে আপনাদের জন্য থাকছে কীভাবে কিডনি সুরক্ষিত রাখতে পারেন তার ১০টি টিপস। চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক।

১. কিডনি সুস্থ রাখতে পানি

কিডনি সুস্থ রাখতে পানি

কিডনি ঠিক রাখতে হলে শরীরে পানির ভারসাম্য ঠিক রাখা সবচেয়ে জরুরি। আপনার শরীরে পানির ভারসাম্য ঠিক আছে কি না তা আপনি নিজেই বুঝতে পারবেন। প্রস্রাব যদি হলদেটে, গাঢ়, অল্প হয় তাহলে বুঝবেন আপনার শরীর পানি কম পাচ্ছে। সেজন্য কিডনি অল্প প্রস্রাব তৈরি করছে। প্রতিদিন অন্তত ৮ গ্লাস অর্থাৎ ২ লিটার পানি পান করা উচিত।

২. উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখুন

কিডনি সুস্থ রাখতে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ

কিডনির সমস্যার একটি লক্ষণ হতে পারে উচ্চ রক্তচাপ। তাই উচ্চ রক্তচাপের রুগিরা কিডনির সুরক্ষায় বেশি সচেতন হোন। লক্ষ্য হওয়া উচিত রক্তচাপ ১৩০/৮০ এর নিচে রাখা। নিয়মিত ওষুধ খাবেন। প্রতিদিন হালকা ব্যায়াম করবেন। খাবারে লবণের পরিমাণ কমাবেন।

৩. কিডনি সুস্থ রাখতে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ

কিডনি সুস্থ রাখতে ডায়াবিটিস নিয়ন্ত্রণ

ডায়াবিটিস রোগের অন্যতম টার্গেট অঙ্গ হলো কিডনি। রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে না থাকলে কিডনির কোষগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা থাকে। এছাড়া কিডনি ঠিকমতো বর্জ্য পরিস্রুত করতে পারে না। একসময় বিকল হয়ে যেতে পারে কিডনি।

৪. কামরাঙ্গা কে না বলুন

কিডনি সুস্থ রাখতে কামরাঙ্গাকে না বলুন
ছবি: wikipedia

কামরাঙা আপনার কিডনি নষ্ট করে দিতে পারে। যাদের কিডনি রোগ আছে তাদের জন্য কামরাঙা আরও ক্ষতিকর। এমনকি কামরাঙা কিডনি রুগিদের মৃত্যু পর্যন্ত ঘটাতে পারে। কামরাঙায় অক্সালিক অ্যাসিড থাকে। যা পাথর সৃষ্টি করে অ্যাকিউট রেনাল ফেইলিউর করতে পারে। এছাড়া কামরাঙায় প্রচুর পটাসিয়াম থাকে। দীর্ঘদিনের কিডনি রোগীদের জন্য যা অত্যন্ত ক্ষতিকর।

৫. কিডনি সুস্থ রাখতে খাদ্যাভ্যাস বদলে ফেলুন আজই

সুষম খাবার

পর্যাপ্ত পরিমাণে সুষম খাবার খাওয়ার অভ্যাস করুন। প্রচুর পরিমাণে সবুজ শাক সবজি, ফল খান। শরীরে প্রতিদিনের লবণের চাহিদা ৫ মিলিগ্রাম বা এক চা চামচ। এর বেশি খাবেন না। যাদের কিডনির সমস্যা আছে তারা প্রোটিন জাতীয় খাবার কম করে খাবেন। কিডনির রোগের স্টেজের ওপর নির্ভর করে প্রতিদিন ৩৭—৪১ গ্রাম প্রোটিনের বেশি খাওয়া উচিত না।

৬. বিভিন্ন ইনফেকশন কে অবহেলা করবেন না

কিডনি ইনফেকশন
ছবি: wikimedia

আমাদের অনেকের মধ্যে বাজে অভ্যাস আছে একটা। আমরা অনেকক্ষণ প্রস্রাব চেপে রাখি। এটা আমাদের প্রস্রাবে ইনফেকশন তৈরি করতে পারে। এর ফলে কিডনিও আক্রান্ত হতে পারে। গলা এবং ত্বকে স্ট্রেপটোকক্কাসজাতীয় ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ হয়। পরবর্তীতে এটি কিডনিকেও আক্রান্ত করতে পারে। তাই এসব ইনফেকশন হলে অবহেলা না করে সঠিক চিকিৎসা নিন।

৭. ওষুধ খাওয়ার ব্যাপারে আরো সচেতন হোন

ওষুধ খাওয়া
শরীরে কোথাও ব্যথা হলে আমরা হুট করে ব্যথানাশক খেতে থাকি। দীর্ঘদিন এসব ওষুধ খাওয়ার কারণে কিডনি নষ্ট হতে পারে। এছাড়া অনেক অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ আছে যেগুলো কিডনির ক্ষতি করে। তাই ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ইচ্ছেমতো ওষুধ খাবেন না।

৮. অতিরিক্ত ভিটামিন সি এবং ভিটামিন ডি এর প্রভাব

ইদানীং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সবাই প্রচুর ভিটামিন সি এবং ডি খাচ্ছে। কিন্তু আপনাকে প্রতিদিনের সর্বোচ্চ গ্রহণের মাত্রা মনে রাখতে হবে। কেননা মাত্রাতিরিক্ত সেবনের ফলে কিডনিতে পাথর হতে পারে।

৯. ধূমপান বর্জন করুন আজই

ধূমপান

ধূমপান আপনার রক্তচাপ বৃদ্ধি করে। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের ওষুধগুলো ঠিকমতো কাজ করতে পারে না। কিডনিতে রক্তচলাচল কমিয়ে দিতে পারে ধূমপান। এছাড়া যাদের কিডনি রোগ আছে ধূমপান তাদের মূত্রে প্রোটিনের পরিমাণ বৃদ্ধি করে।

১০. কিডনির পরীক্ষা করুন

ছবি: wikipedia

কিডনি রোগ একটি নীরব ঘাতক। প্রথম দিকে বোঝা যায় না কিডনির সমস্যা। ডায়াবিটিস, উচ্চ রক্তচাপ, অতিরিক্ত ওজন, পারিবারিক কিডনি রোগের ইতিহাস থাকলে আপনিও কিডনি রোগের ঝুঁকিতে আছেন। তাই নিয়মিত কিডনি ঠিক আছে কি না তা পরীক্ষা করুন এবং ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

কিডনির সুস্থতায় করণীয় সম্পর্কে জানতে পেরেছেন আশা করি। আপনার বন্ধু ও পরিবারের সাথে লেখাটি শেয়ার করুন। সবার সচেতনতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করুন। ধন্যবাদ দেহ’র সাথে থাকার জন্য।

দেহ/প্রবাচ/পলাশ

Leave your vote

Comments

0 comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *