কিশোরীদের ওজন বাড়া

বিভিন্ন বয়সে ওজন বৃদ্ধির সমস্যায় পড়েন নারীরা। কিশোরীদের হঠাৎ করে ওজন বাড়ে, গর্ভাবস্থায় তো বাড়েই। কারও আবার বাড়ে মধ্য বয়সে। ওজন ঠিক কত হওয়া উচিত, তা নির্ভর করে বয়স আর উচ্চতার ওপর। সমবয়সী একজন নারী ও একজন পুরুষের উচ্চতা এক হলেও ওজনে কিছু তারতম্য থাকতে পারে। গর্ভধারণের সময় নারীদের ওজন গড়পড়তা ১০ থেকে ১৫ কেজি বাড়তে পারে। সন্তান জন্মের পরও অনেকেই ঠিক আগের অবস্থায় ফিরে যান না।

কৈশোরে মেয়েদের মুটিয়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখা দেয়। জিনগত কারণ ছাড়া মূলত জীবনযাত্রার ধরনের ওপরই নির্ভর করে শরীরের ওজন। কৈশোরে মেয়েরা খেলাধুলা, শারীরিক পরিশ্রম করে না বললেই চলে। শৈশব-কৈশোরে মেয়েদের খেলাধুলা ও দৌড়ঝাঁপ করার সুযোগ থাকা প্রয়োজন। বাইরে যাওয়ার পরিবেশ না পেলে ঘরেই দড়িলাফ বা হালকা কোনো ব্যায়ামের ব্যবস্থা করা উচিত।

খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণে রাখাটাও জরুরি। এ প্রজন্মের ফাস্ট ফুডের প্রতি নির্ভরশীলতা বাড়ছে; আইসক্রিম, চকলেট, কোমল পানীয় হয়ে উঠছে নিত্যদিনের ব্যাপার। অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণে অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে অনেকে। পাশাপাশি ইলেকট্রনিক ডিভাইসের প্রতি ঝুঁকে পড়ার কারণে শরীর নাড়ানোর সময়ই যেন মিলছে না; তাই ক্যালরি খরচ হচ্ছে না। পর্যাপ্ত আমিষজাতীয় খাবার খেতে হবে, নিয়ন্ত্রণ করতে হবে শর্করা ও তেল-চর্বিসমৃদ্ধ খাবার। টাটকা ফলমূল ও শাকসবজি খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। টেলিভিশন দেখার সময় খাওয়ার অভ্যাস পরিত্যাগ করুন।

কিছু ওষুধের কারণেও ওজন বাড়ে, যেমন- জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি কিংবা মানসিক সমস্যায় ব্যবহৃত ওষুধ। আবার পর্যাপ্ত ঘুম না হলে, মানসিক চাপ বা দুশ্চিন্তা থাকলেও ওজন বাড়তে পারে।

তবে এসবের বাইরে হরমোনজনিত কিছু সমস্যার কারণে মেয়েদের ওজন বাড়ে। ওজন বাড়ার পাশাপাশি শরীরের বিভিন্ন স্থানে পুরুষের মতো চুল গজানো (দাড়ি-গোঁফের স্থানে, তলপেটে বা বুকে), মাথার চুল পড়ে যাওয়া, অনিয়মিত মাসিক, অতিরিক্ত ব্রণ, ঠান্ডা সহ্য করতে না পারা, ত্বক শুষ্ক ও খসখসে হয়ে আসা, কণ্ঠস্বর ফ্যাসফেসে বা ভারী হয়ে যাওয়া, বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হওয়া, কাজকর্মে অস্বাভাবিক ধীরতা চলে আসা অথবা মাংসপেশিতে টান ধরা বা ব্যথা থাকলে হরমোনজনিত সমস্যা ইত্যাদি। এসব সমস্যার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারেন।

Leave your vote

Comments

0 comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *