in

কেন খাবেন শুঁটকি মাছ

সোনিয়া সাবরিন, পুষ্টিবিদ, লেকসিটি ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টার, খিলক্ষেত, ঢাকা

খাদ্য সংরক্ষণের বিভিন্ন পদ্ধতির মধ্যে অনেক পুরোনো একটি পদ্ধতি হচ্ছে রোদে শুকিয়ে খাদ্য সংরক্ষণ। মাছ যখন শুকিয়ে সংরক্ষণ করা হয়, তখন তাকে আমরা শুঁটকি মাছ বলে থাকি। মাছ রোদে শুকানো হলে মাছের যে জলীয় অংশ থাকে, তা শুকিয়ে যাওয়ার ফলে মাইক্রোঅরগানিজম জন্মাতে পারে না এবং মাছকে দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যায়।

শুঁটকি দিয়ে রান্না করা চট্টগ্রাম–নোয়াখালী অঞ্চলের বিখ্যাত খাবার দোমাছা ছবি: জান্নাতুল তাবাসসুম

শুঁটকি মাছের একটি আলাদা গন্ধ ও স্বাদ রয়েছে। অনেকেই শুঁটকি মাছ খেতে খুবই পছন্দ করেন; অনেকে আবার শুঁটকি মাছের গন্ধ সহ্য করতে পারেন না। কারও কারও কাছে শুঁটকি মাছের ভর্তা ও নানা রকম পদ অত্যন্ত পছন্দনীয়।

শুঁটকি মাছ আমাদের শরীরের জন্য কতটুকু স্বাস্থ্যকর, তা আমাদের জানা নেই। এমনকি শুঁটকি মাছের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে আমাদের অনেকেরই স্পষ্ট ধারণা নেই। ভালো মানের সতেজ মাছ কোনো কৃত্রিম প্রিজারভেটিভ ছাড়া শুকিয়ে সংরক্ষণ করলে শুঁটকি মাছ হয় সম্পূর্ণভাবে একটি প্রাকৃতিক খাবার।

কোনো কৃত্রিম প্রিজারভেটিভ ছাড়া শুকিয়ে সংরক্ষণ করলে শুঁটকি মাছ হয় সম্পূর্ণভাবে একটি প্রাকৃতিক খাবার ছবি: প্রথম আলো

শুঁটকি মাছে যেসব পুষ্টি উপাদান থাকে

প্রোটিন: আমরা জানি দেহের গঠন, ক্ষয়পূরণসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য প্রোটিন একটি অপরিহার্য পুষ্টি উপাদান। শুঁটকি মাছ উচ্চমানের প্রোটিনের ভালো উৎস। এতে প্রায় ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ প্রোটিন পাওয়া যায়। শুঁটকি মাছের প্রোটিনে যে অ্যামিনো অ্যাসিড থাকে, তা প্রায় ডিমের অ্যামিনো অ্যাসিডের সঙ্গে তুলনীয়।

অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট: শুঁটকি মাছে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট পাওয়া যায়, যা রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।

সোডিয়াম: এটি র’ক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে। এ ছাড়া নার্ভ ও মাংসপেশির সঠিক কার্যক্রমের জন্য সহায়তা করে।

পটাশিয়াম: এটি দেহের জন্য অপরিহার্য উপাদান। পটাশিয়াম দেহে পানির সমতা বজায় রাখে। সেই সঙ্গে আমাদের স্নায়ুতন্ত্র, মাংসপেশি ও হৃৎপিণ্ডের সুষ্ঠু কার্যক্রমের জন্য এটি প্রয়োজনীয়।

শুঁটকি মাছে আছো প্রোটিন ছবি: প্রথম আলো

ফসফরাস: আমাদের হাড়, দাঁত ও ডিএনএ এবং আরএনএ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এটি।

ভিটামিন বি১২: এটি স্নায়ুতন্ত্রের সুস্থতা ও মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা সঠিক রাখে এবং লোহিত র’ক্তকণিকা গঠনে সাহায্য করে।

সেলেনিয়াম: সেলেনিয়াম শরীরে খুব কম পরিমাণে প্রয়োজন হয়। এটি প্রোটিন ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এনজাইম তৈরিতে অংশগ্রহণ করে। এ ছাড়া দেহে কোষ ধ্বংস প্রতিরোধ করে।

নায়াসিন: নায়াসিন দেহে খাবার থেকে শক্তি তৈরি করে। এ ছাড়া স্নায়ুতন্ত্র, পরিপাকতন্ত্র ও ত্বক সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।

শুঁটকি মাছে কোলেস্টেরল ও সেচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড কম থাকে। তাই এটি হৃদরোগ ও উচ্চ র’ক্তচাপের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।

শুঁটকি মাছে ক্যালরি কম থাকে ছবি: প্রথম আলো

যাঁরা ওজন নিয়ন্ত্রণের জন্য ডায়েট করছেন, তাঁরা প্রোটিনের উৎস হিসেবে শুঁটকি মাছ খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন। কারণ এতে ক্যালরি কম থাকে।

১০০ গ্রাম শুঁটকি মাছ থেকে প্রায় ৮০ শতাংশ প্রোটিন এবং ৩০০ ক্যালরি পাওয়া যায়। কিন্তু সমপরিমাণ গরুর মাংস থেকে প্রায় দ্বিগুণ ক্যালরি এবং তুলনামূলক কম প্রোটিন পাওয়া যায়।

What do you think?

DEHO

Written by DEHO

রোগ প্রতিরোধ এবং প্রতিকারের জন্য ওষুধের উপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে প্রাকৃতিক প্রতিষেধকগুলো সম্পর্কে ধারণা এবং এদের ব্যবহার জানা জরুরী। সঠিক খাদ্য নির্বাচন এবং ব্যায়াম অসুখ বিসুখ থেকে দূরে থাকার মূলমন্ত্র। রোগের প্রতিকার নয়, প্রতিরোধ করা শিখতে হবে। এই সাইটটির উদ্দেশ্য বাংলাভাষায় স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি করা। তবে তা কোন অবস্থাতেই চিকিৎসকের বিকল্প হিসাবে নয়। রোগ নির্ণয় এবং তার চিকিৎসার জন্য সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Loading…

0

শীতে শিশুকে রোগমুক্ত রাখবে ৫ খাবার

করোনা ভাইরাস: টিকায় পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হলে বাংলাদেশে যা করা হবে