ঘামের দুর্গন্ধ থেকে মুক্তি পাওয়ার ১০টি কার্যকর উপায়

ঘামের মাধ্যমে শরীর অতিরিক্ত তাপ বর্জন করে দেহের তাপমাত্রার ভারসাম্য ঠিকঠাক রাখে। কিন্তু এই ঘামই আবার বিভিন্ন সময়ে হয়ে ওঠে লজ্জার কারণ। কোনও অনুষ্ঠানে বা কর্মক্ষেত্রে যখন লোকের সঙ্গে মেলামেশা করার প্রয়োজন পড়ে, ঘাম ও ঘামের দুর্গন্ধ আপনাকে অপ্রস্তুত করে তোলে।

ঘামের দুর্গন্ধ থেকে বাঁচতে যা যা করা যেতে পারে তার একটি তালিকা নিচে দেওয়া হলো। আশা করি এই তালিকা আপনার ঘাম থেকে দুর্গন্ধ দূর করতে সাহায্য করবে। চলুন দেখে নেওয়া যাক তালিকাটি।

১. মশলাদার খাবার বন্ধ

ঘাম হওয়া আটকাতে গেলে প্রথমেই যেদিকে নজর দেওয়া উচিত তা হল খাদ্যাভ্যাস। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় যত কম পরিমাণে ফাস্টফুড, মশলাদার খাবার ও তেলের খাবার রাখা যায় ততই ভালো। এধরনের খাবার পেটে ঢুকলেই প্রচণ্ড তাপ উৎপন্ন করতে থাকে যা কমাতে শরীর ঘাম উৎপন্ন করে।

২. হালকা রঙের জামা পরুন

গাঢ় রঙের জামা যত বেশি পরবেন, শরীর আশেপাশের তাপ আরও বেশি শোষণ করবে। ফলে ঘামও নিশ্চিত। তাই চেষ্টা করুন দিনের বেলা হালকা রঙের জামা পরতে। হালকা রঙের জামা যে কোনও রকমের তাপ প্রতিফলিত করে শরীরের তাপমাত্রা ঠিক রাখতে সাহায্য করে।

৩. রোদে বের হবেন না

রোদ কেন, প্রয়োজন না থাকলে কোনও বেশি তাপমাত্রার এলাকাতেই যাবেন না। চেষ্টা করুন ছায়া আছে এমন এলাকায় দিনের বেশিরভাগ সময় থাকার। জানালার পর্দা টেনে রাখুন যাতে বাইরের তাপ ঘরে এসে ঘরকে বেশি উত্তপ্ত করতে না পারে।

৪. চাপ নেবেন না

প্রতিদিনের রুটিনে কতরকম কাজ থাকে, ঠিকঠাকভাবে সাফল্যের সঙ্গে তা হবে কি না তা নিয়েও চিন্তা কম নয়। চাপ নেবেন না। আপনি যত চাপ নেবেন ততই শরীরে বাড়বে স্ট্রেস হরমোনের ক্ষরণ যা আপনার দেহের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয়। ফলে ঘাম অবশ্যসম্ভাবী।

৫. অ্যান্টিপারস্পিরান্ট ব্যবহার করুন

ঘাম হওয়া আটকাতে ব্যবহার করতে পারেন ডিওডোরেন্ট বা অ্যান্টিপারস্পিরান্ট। কিন্তু সবাই যে ভুল করে তা করবেন না। এটি সকালে গোসল করে বগলে গলায় বুকে দেবেন না, বরং দিন রাতে শুতে যাওয়ার সময়। লোমকূপে গিয়ে এর কাজ করতে বেশ কিছুটা সময় লাগে, তাছাড়া রাতে উষ্ণতা কম থাকায় এটি ব্যবহার করে ভালো ফল মেলে।

৬. বেকিং সোডা

বেকিং সোডা শরীরের ঘাম শুষে নিয়ে ঘাম থেকে দুর্গন্ধ হওয়া প্রতিরোধ করে। ১ টেবিল চামচ বেকিং সোডা ও লেবুর রস মিশিয়ে নিন। এটি আন্ডার আর্মসে লাগান। কিছুক্ষণ পর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এটি প্রতিদিন একবার করুন। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আপনার ঘামের দুর্গন্ধের সমস্যা দূর হয়ে যাবে।

৭. প্রতিদিন গোসল করুন

বাইরে থেকে এসে কিংবা শরীরচর্চার পর অবশ্যই গোসল করতে হবে, যেন শরীরের ঘাম শুকিয়ে দুর্গন্ধের সৃষ্টি না হয়। গোসলের সময় অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল সোপ, যেমন—কার্বলিক সোপ ব্যবহার করে ব্যাকটেরিয়ার আধিক্য কমিয়ে ঘামের দুর্গন্ধ দূর করা যায়।

৮. ধোয়া কাপড় পরুন

অপরিষ্কার নোংরা কাপড় পরার অভ্যাস ত্যাগ করুন। অন্তর্বাস ও অন্যান্য কাপড় প্রতিদিন ধুয়ে ফেলতে হবে। অন্তর্বাস সুতি হলে ভালো, এতে ত্বকে বাতাস চলাচল ভালো হয়। ফলে ঘাম থেকে দুর্গন্ধ বের হয় না।

৯. মিষ্টি খাবরও এড়িয়ে চলুন

ঘামের দুর্গন্ধ হওয়ার পেছনে মিষ্টি খাবারেও কিছু ভূমিকা রয়েছে। বেশি মিষ্টি খাবার দেহে ইস্ট উৎপন্ন করে। সাধারণত অ্যালকোহলের মধ্যে যে চিনি মেশানো হয় সেটা থেকে এই ইস্ট বেশি উৎপন্ন হয়; যা ঘামে দুর্গন্ধ তৈরি করে।

১০. বগলের লোম পরিষ্কার করুন

বগলের লোম জমে থাকা ঘামকে বাষ্পীভূত হতে দেয় না, ব্যাকটেরিয়া অনেক সময় ধরে দূর্গন্ধ তৈরি করে। তাই নিয়মিত আর্ম পিট ওয়াক্স করুন। তাহলে ঘাম কম হবে, গন্ধ হবে না এবং কাপড়েও ঘামের দাগ থাকবে না।

Leave your vote

Comments

0 comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *