চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ

চলুন ঘুরে আসি ‘সাংস্কৃতিক মেডিকেল কলেজ’ থেকে

বাংলাদেশের দক্ষিণ পূর্ব অঞ্চলের সবচাইতে পুরাতন মেডিকেল কলেজ হল চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ। বয়সের দিক থেকে প্রাচীন মনে হলেও, এই প্রতিষ্ঠানটি প্রতিনিয়ত জ্ঞানে, গুণে আরো সমৃদ্ধ হয়ে উঠছে। সময়ের সাথে সাথে এই চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান এগিয়ে চলছে এক দূর্বার গতিতে। ‘কালচারাল মেডিকেল কলেজ’ নামে খ্যাত এই মেডিকেলটিকে বাংলাদেশের বন্দর নগরীর প্রাণকেন্দ্র হিসেবে গণ্য করলে কোন ভুল হবে না।

চিকিৎসা বিজ্ঞানে, স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে ও শিক্ষার্থীদের উচ্চ শিক্ষা প্রদানে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে এই মেডিকেল কলেজটি। শিক্ষা, সেবা ও সংস্কৃতি- সব ক্ষেত্রেই অত্যাধুনিক এই চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান নিয়েই দেহ’র আজকের এই প্রতিবেদন।

https://www.facebook.com/cmchpage/photos/a.618603451657761/618603401657766/?type=1&theater

বর্তমানে দেশের অন্যতম চিকিৎসা-বিষয়ক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, এই চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ-এর যাত্রা শুরু হয় ১৯২৭ সালে। চট্টগ্রামের আন্দরকিল্লায় অবস্থিত চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের প্রাঙ্গণে এই মেডিকেল কলেজের সোনালি ইতিহাসের আরম্ভ হয় চট্টগ্রাম মেডিকেল স্কুল নামে। শুরুর দিকে এই কলেজে ৪ বছরের এলএমএফ ডিগ্রীর ব্যবস্থা ছিল। ১৯৫৭ সালের ২০ই সেপ্টেম্বর মাসে “চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ” প্রতিষ্ঠিত হয়। এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তৎকালীন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হোসাইন শহিদ সোহরাওয়ার্দী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত। ১৯৬০ সালে এটি বর্তমান অবস্থানে স্থানান্তরিত করা হয়।

https://www.facebook.com/ChittagongMedical/photos/a.714478985304823/714478908638164/?type=1&theater

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ বাংলাদেশের পোর্ট সিটির পাঁচলাইশ এলাকার কে বি ফজলুল কাদের রোডে অবস্থিত। মূল কলেজ ক্যাম্পাসে একাডেমিক ভবনে রয়েছে ৩টি লেকচার গ্যালারি ও একটি হল। এছাড়া প্রতিটি ডিপার্টমেন্টের রয়েছে অসংখ্য টিউটোরিয়াল রুম। মেডিকেলে আরো রয়েছে ৩৪টি ওয়ার্ড ও ওয়ার্ডসংলগ্ন টিচিং ও কনফেরেন্স রুম।

https://www.facebook.com/CMCH1960/photos/a.287545786337/10153680953706338/?type=3&theater

কলেজ বিল্ডিং এর পশ্চিম ব্লকে আছে ‘শিমু গ্রন্থাগার’।ভবনটিতে রয়েছে ১২০ জন শিক্ষার্থী ধারণের ক্ষমতা-সম্পন্ন দুটি রিডিং রুম, আর একটি’বোন্স লাইব্রেরি’ যা কিনা অন্য কোন মেডিকেলে নেই। শিক্ষার্থীদের অবসরের জন্য আছে কমনরুম, নন-মেডিকেলীয় গ্রন্থাগার, ক্যাফেটেরিয়া।

https://www.facebook.com/CMCH1960/photos/a.287545786337/10153680956861338/?type=3&theater

ক্যাম্পাসের শোভা বর্ধন করছে একটি মুক্তমঞ্চ ও একটি শহিদ মিনার। সকল ব্যাচের অনুষ্ঠান ও নানান সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের জন্য আছে একটি অডিটোরিয়ামও।

https://www.facebook.com/CMCH1960/photos/a.287545786337/10153680961811338/?type=3&theater

চট্টগ্রাম মেডিকেলের ছেলে শিক্ষার্থীদের জন্য আছে ৩টি হোস্টেল, যার মাঝে দুটি ক্যাম্পাস থেকে খানিকটা দূরে। মেয়েদের জন্য আছে দুটি ছাত্রীনিবাস।

https://www.facebook.com/CMCH1960/photos/a.287545786337/10153680953901338/?type=3&theater

এই মেডিকেল কলেজ এ মোট ৩৫টি বিভাগ আছে। মাত্র ১২০টি বেড নিয়ে যাত্রা শুরু করা এই হাসপাতালটি আজ ১৩১৩ শয্যাবিশিষ্ট তৃতীয় পর্যায়ের এক অত্যাধুনিক হাসপাতাল হয়ে দাঁড়িয়েছে।

https://www.facebook.com/CMCH1960/photos/a.287545786337/10153680955121338/?type=3&theater

২০০৭ সাল থেকে এ হাসপাতালে এম আর আই, সিটি স্ক্যান ও ডিএনএ টেস্টিং সেবা চালু হয়। চট্টগ্রাম মেডিকেলের আছে নিজস্ব মর্গ, নিউক্লিয়ার মেডিসিন ভবন, নার্সিং ও ডেন্টাল কলেজ। হাসপাতাল ভবনে আছে একটি সর্বাধুনিক ব্যবস্থাসম্পন্ন মেডিকেল স্কিল সেন্টার।

https://www.facebook.com/CMCH1960/photos/a.287545786337/10151405950516338/?type=3&theater

চট্টগ্রাম মেডিকেলের শিক্ষার্থীরা নানান এক্সট্রা-কারিকুলার কাজকর্মে নিযুক্ত থাকে। সন্ধানী, সোশাল ওয়েলফেয়ার ডিপার্টমেন্ট, ও বাংলাদেশের একমাত্র নির্বাচিত ছাত্র সংসদ ‘সিএমসিএসইউ’ সহ আরো অনেক অ্যাকাডেমিক, সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবায় নিয়জিত ক্লাবের সাথে সম্পৃক্ত আছে অনেক শিক্ষার্থীই। অক্সফোর্ডে ১ মাস ব্যাপী ‘এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামে’ অংশগ্রহণের সুযোগ পায় এই মেডিকেলের কৃতি ছাত্রছাত্রীরা।

https://www.facebook.com/photo.php?fbid=1641511846140360&set=bc.Abqra4ZYoef7Kgrjns7C9-2dZcpn_NEhcgAME06oVCV0otQ1aLPLNAMDaOihVfOFIUYpNJx_fd5oD096954mOr5jLzPwi2tv9xrDd8k0_NdsNxB3SJWd2hLic80Zyt7qweZFx8bc9cuz5oNQ2MKAUHImVTflwMpNR4Ot4Oi93wzb9Q&type=1&opaqueCursor=Abo8MGIWnJO65Lz8c8udAY1zhUQDZ9o85Phz4aDKGbdN9YhvXXpPllc8CHbLKMzfUR_HGMg_TVTIOHKTVWOiNEPX4dTKoVU5rZKHhGb9TjpPmhLhSn-bieahO2FhcqeiZm8pxv9-_t9ZSuy65B-5vkkcVr2y0jsg4Z0YxSTD_fXOGZgxUwzUPaXSj_0K2q9c9a0q6rRWCdWnDOujYTSP5CISJm_rnQBlyyFJI7PksVt_IuLVLGZqfK-tJSSFUgbaxAKPowKMZIUs-UmPdXNTqmMOC4HEnJn9CoHzJqx-EijlWdJMC1CRPvdECVTZLvffvNl7nYQLEfkCF0ncLM6Ai-2XRvqDvZ1KOH8o9uIRK4kEhvJd7fued2gzI4Wm1OFte2yUvtjZQBRcPZ83QjAQimz1LiV9yG_AdwMe_MQ9Fo9UAgKVPeT67vSiaIUx3gWPH1NSm2EK3k0c-BYM9LAsJEPKN2d2zkc2WgARGqeQs0uC5ike2RENWow6Ye5MUkz2UMQ&theater

স্নেক ভেনম অর্থাৎ সাপের বিষ নিয়ে রিসার্চ, ম্যালেরিয়া রিসার্চ সহ আরো নানান গবেষণামূলক কাজ প্রতিনিয়ত হচ্ছে এই প্রতিষ্ঠানে। বর্তমানে এমবিবিএস ছাড়াও বিভিন্ন পোস্ট গ্রাজুয়েশন কোর্সের সুবিধা প্রদান করছে এ মেডিকেল। এখানে আছে ৩১টি পিজি কোর্স, ৯টি এমডি কোর্স, ৬টি এমফিল কোর্স ও ৭টি বিষয়ের ভিন্ন ভিন্ন ডিপ্লোমা কোর্স, এমপিএইচ, এমএস, এমডি কোর্স করার সুযোগ।

https://www.facebook.com/cmchpage/photos/a.618614538323319/747256598792445/?type=3&theater

‘শিখতে আসো, সেবার তরে বেরিয়ে যাও’ এই নীতি বাক্য নিয়ে সেবার ব্রতে কাজ করে চলছে বাংলাদেশের এই বিখ্যাত মেডিকেল কলেজ। প্রতি বছর ২৫০ দেশি বিদেশি শিক্ষার্থীরা এমবিবিএস ও বিডিএস কোর্সে ভর্তি হয় অসংখ্য স্বপ্ন মনে নিয়ে। তাদের সেই সকল স্বপ্ন পূরণের দ্বারপ্রান্ত এই মেডিকেল। তাদের মস্তিষ্ক, মন ও মেধার এক অদ্ভুত মিল ঘটায় এ প্রতিষ্ঠান, এবং তাদের গড়ে তোলে মানবিক ডাক্তার হিসেবে। আশা করছি, প্রতিবেদনটি পড়ে এই সমৃদ্ধ সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে আপনি কিছু নিখুঁত তথ্য জানতে পেরেছেন।

নাভিরা/প্রবাচ/পলাশ

Leave your vote

Comments

0 comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *