জাম খাওয়ার ৯টি অসাধারণ উপকারিতা

আমাদের দেশে গ্রীষ্মকালে বিভিন্ন ধরনের রসাল ও মিষ্টি ফল হয়ে থাকে। বিভিন্ন ফলের থাকে নানান পুষ্টিগুণ। ফল আমাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করার পাশাপাশি রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করতে শরীরে শক্তি জোগায়। এ ছাড়া প্রায় সব ফলেই পানি থাকায় সেগুলো আমাদের শরীরের পানিশুন্যতাও দূর করতে সাহায্য করে।

আমাদের দেশীয় ফলগুলোর মধ্যে জাম অন্যতম। এ ফলটিতে থাকে খাদ্য শক্তি, আঁশ, ক্যালসিয়াম, লৌহ, শর্করা, ক্যারোটিন, চর্বি, আমিষ ও ভিটামিন-সির মতো গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য উপাদান। এটি ত্বক টান টান করতে ও স্মৃতিশক্তি বাড়াতে অনেক কার্যকরী। এ ছাড়া ফলটির রয়েছে অনেক রকম গুণাবলি। জানুন এটি খাওয়ার কিছু উপকারিতা—

১. ত্বকের সমস্যা

নিয়মিত জাম খেলে ত্বকের অনেক সমস্যা দূর হয়। এটি ত্বক টান টান করতে সাহায্য করে। এ ছাড়া এটি ত্বকের ব্রণ, ব্ল্যাকহেডস ইত্যাদির সমস্যা দূর করে ত্বককে উজ্জ্বল রাখতে সাহায্য করে।

২. হজমশক্তির সমস্যা

অনেকেই হজমজনিত নানা সমস্যায় ভুগে থাকেন। হজমের সমস্যার বিপরীতে জাম অনেক উপকারী ফল হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জাম হজমশক্তি দ্রুত বাড়াতে সাহায্য। ডায়েটারি ফাইবারের অন্যতম কার্যকরী উৎস হওয়ার কারণে এটি নিয়মিত খাওয়ার ফলে হজমশক্তি বাড়ে ও হজমসংক্রান্ত নানা সমস্যা দূর করে। এ ছাড়া এটি লিভারকে ভালো রাখতেও কার্যকরী।

৩. হৃদযন্ত্রের উপকারী

জামে ফসফরাস ও পটাশিয়ামজাতীয় খনিজ থাকার কারণে এটি হৃদযন্ত্রের জন্য অনেক উপকারী হিসেবে কাজ করে। এটি র’ক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রেখে হৃদযন্ত্রকে ভালো রাখতে সাহায্য করে। একারণে জামের মৌসুমে নিয়মিত এটি খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

৪. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিকারী

জাম শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। এ ফলটিতে থাকা ভিটামিন বি১, বি২, বি৩, বি৬ ও ভিটামিন সি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে অনেক উপকারী। এ ছাড়া জামের অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্য থাকার কারণে এটি শরীরের ভেতরের এবং বাইরের সংক্রমণকেও প্রতিরোধ করে।

৫. দাঁতের ও হাড়ের জন্য উপকারী

দাঁতকে মজবুত করতে অনেক উপকারী হিসেবে কাজ করে জাম। এতে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম ও আয়রন থাকার কারণে এটি দাঁত ও হাড়কে মজবুত রাখতে সাহায্য করে। আরও ভালো ফল পেতে দুধের সঙ্গে জামের গুঁড়া মিশিয়ে খেতে পারেন।

৬. ডায়াবেটিস রোগে উপকারী

জামে কম গ্লাইসেমিক সূচক থাকার কারণে এটি র’ক্তে চিনির মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। তাই এটি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য অনেক উপকারী। এ ছাড়া ডায়াবেটিস রোগীদের ঘন ঘন তৃষ্ণা ও প্রস্রাব এবং দুর্বলতা সমস্য কমাতেও অনেক উপকারী ফল এটি।

৭. স্মৃতিশক্তি ধরে রাখে

জামে গ্লুকোজ ও ফ্রুকটোজ রয়েছে, যা মানুষকে জোগায় কাজ করার শক্তি। বয়স যত বাড়তে থাকে, মানুষ ততই হারাতে থাকে স্মৃতিশক্তি। জাম স্মৃতিশক্তি প্রখর রাখতে সাহায্য করে।

৮. ইনফেকশন দূর করে

জামে ম্যালিক এসিড, গ্যালিক এসিড ,অক্সালিক এসিড এবং ট্যানিনস এর মতো যৌগ রয়েছে, যা ফলটিকে অ্যান্টি-ম্যালেরিয়াল, অ্যান্টি-ব্যাক্টেরিয়া, অ্যান্টি-ইনফেক্টিভ এবং গ্যাস্ট্রো-এর প্রতিরক্ষামূলক হিসাবে তৈরি করে। জাম ফলটিতে থাকা এত সব অ্যান্টি উপাদান শরীর থেকে বিষাক্ত ইনফেকশন দূর করতে সাহায্য করে।

৯. ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে

বেশ কয়েকটি গবেষণায় জামের কেমো প্রটেক্টিভ বৈশিষ্ট্যগুলো নিয়ে অনেকে তদন্ত হয়েছে। জে. সি. জ্যাগেটিয়া এবং তার কলিগ-দের একটি গবেষণা অনুযায়ী এই ফলের নির্যাসে প্রোটেক্টিভ বৈশিষ্ট্য আছে, যা প্রমাণ করে যে জামের নির্যাস ক্যান্সার হওয়া থেকে দেহকে রক্ষা করে থাকে। এটি ফ্রি রেডিক্যালসকে নষ্ট করে দেয়।

Leave your vote

-1 points
Upvote Downvote

Comments

0 comments