জিতে নিন ২৫০০ টাকার করোনা কেয়ার প্যাক

করোনার লক্ষণ দেখা দিলে কী করবেন, কোথায় যাবেন- তা নিয়ে হতবিহ্বল হয়ে পড়েন সবাই। এরপর নিজেদের গড়িমসি, অসচেতনতা, টেস্টের সিরিয়াল, নমুনা দেয়া ও ফলাফল পেতে চলে যায় আরো ১০-১৫ দিন। অনেক ক্ষেত্রেই এই ১০-১৫ দিন সময়ে দুর্বল স্বাস্থ্যের রোগীদের জীবন সংকটাপন্ন হয়ে ওঠে। করোনা ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট প্রচণ্ড শারীরিক যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে অনেক রোগীই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।

এ কারণে ১০-১৫ দিন সময় নষ্ট না করে জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসকের পরামর্শে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা হবে সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। প্রয়োজনীয় ডাক্তারি পরামর্শ এবং ওষুধপত্রসহ বাংলাদেশে আমরাই সর্বপ্রথম ‘করোনা কেয়ার প্যাক’ নামে একটি সার্ভিস ডিজাইন করেছি- যা আপনার জীবন রক্ষায় বিশেষ ভূমিকা রাখবে।

এই করোনা কেয়র প্যাকটি যদি সম্পূর্ণ ফ্রিতে পেতে চান, তাহলে আপনাকে জিততে হবে করোনা নিয়ে ২টি শিক্ষামূলক ধাপ অনুসরণ করে। ২টি ধাপে উল্লিখিত লেখাগুলো পড়ে মাত্র ২টি প্রশ্ন থেকে ১টি প্রশ্নের উত্তর দিলেই অংশগ্রহণ লটারির মাধ্যমে জিতে নিতে পারেন ২৫০০ টাকা মূল্যের একটি করোনা কেয়ার প্যাক। চলুন শুরু করা যাক।

শরীরে হালকা জ্বর, খুশ খুশ করে কাশছেন—সন্দেহ হতে পারে, করোনা নয় তো? কারণ বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই করোনার কারণে সৃষ্ট রোগ কোভিড–১৯–এর প্রকাশ ঘটে জ্বরের মাধ্যমে। এমন অবস্থায় কী করবেন? জ্বর হলেই হাসপাতালে ছুটবেন?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, না, জ্বর হলেই হাসপাতালে ছোটার দরকার নেই। কারণ এই রোগ খুবই সংক্রামক। এতে একজন থেকে অন্যজন, এমনকি হাসপাতালের অন্য রোগীরাও আক্রান্ত হতে পারেন।

তাহলে এমন অবস্থায় করণীয় কী? সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) বলছে, সন্দেহভাজন রোগীকে প্রাথমিকভাবে ঘরেই থাকতে হবে।

এই রোগ নিয়ে এত আতঙ্কের কারণ হচ্ছে এখন পর্যন্ত এর কোনো টিকা বা প্রতিষেধক আবিষ্কৃত হয়নি। চিকিৎসার শরু হয় লক্ষণ দেখে। আইইডিসিআরের তথ্য অনুযায়ী, এই ভাইরাস শরীরে ঢোকার পর সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দিতে ২ থেকে ১৪ দিন সময় লাগে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে প্রথম লক্ষণ হয় জ্বর। এ ছাড়া শুকনো কাশি বা গলাব্যথা হতে পারে।

এ ছাড়া শ্বাসকষ্ট বা নিউমোনিয়া দেখা দিতে পারে। আক্রান্ত ব্যক্তির অন্য রোগ, যেমন ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, শ্বাসকষ্ট, হৃদ্‌রোগ, কিডনির সমস্যা, ক্যানসার ইত্যাদি থাকলে অরগ্যান ফেইলিওর বা দেহের বিভিন্ন প্রত্যঙ্গ বিকল হতে পারে।

প্রতিষেধক না থাকায় এর প্রতিরোধে সচেতন হওয়াই এখন পর্যন্ত কার্যকর উপায়। এ জন্য ঘন ঘন সাবান ও পানি দিয়ে ভালো করে হাত ধুতে হবে, অপরিষ্কার হাতে চোখ, নাক ও মুখ স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকতে হবে, ইতিমধ্যেই আক্রান্ত হয়েছেন—এমন ব্যক্তিদের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলতে হবে, হাঁচি-কাশির শিষ্টাচার মেনে চলতে হবে, অসুস্থ পশুপাখির সংস্পর্শ এড়িয়ে চলতে হবে, মাছ-মাংস ভালোভাবে রান্না করে খেতে হবে।

এ ছাড়া যতটা সম্ভব ঘরে থাকতে হবে, প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে না যাওয়া ও জনসমাগম এড়িয়ে চলতে হবে। আর এই মুহূর্তে বিদেশ থেকে কেউ এলে তাঁকে বাধ্যতামূলকভাবে ১৪ দিন কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে।

কারও জ্বর বা সর্দি-কাশি হলে ফোনে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রাথমিক চিকিৎসা নিতে হবে। এরপরও অবস্থার উন্নতি না হলে বা কারও মধ্যে করোনার লক্ষণ দেখা দিলে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে নাক-মুখ ঢেকে (মাস্ক ব্যবহার) বাড়িতে অপেক্ষা করতে হবে। অবস্থা খারাপ হলে নিকটস্থ সদর হাসপাতালে যোগাযোগ করতে হবে।

১. কেমন করে আমি ঠিকমতো হাত ধোব?

হাতকে পুরোপুরি ভাইরাস মুক্ত করতে হলে ঝটপট হাতে সাবান মাখানো ও আলতোভাবে ধুয়ে ফেলায় কাজ হবে না। কার্যকর হাত ধোয়ার পদ্ধতি প্রতিটি ধাপ নিচে উল্লেখ করা হল।

প্রথম ধাপ: প্রবাহমান পানি দিয়ে হাত ভেজানো।

দ্বিতীয় ধাপ: ভেজা হাতের পুরোটায় ভালোভাবে সাবান মাখানো।

তৃতীয় ধাপ: অন্তত ২০ সেকেন্ড হাতের সামনের ও পেছন ভাগ, আঙুলগুলোর মধ্যে ও নখের নিচের অংশ ভালোভাবে ঘষতে হবে।

চতুর্থ ধাপ: প্রবাহমান পানি দিয়ে পুরো হাত ভালোভাবে কচলে ধুয়ে নিতে হবে।

পঞ্চম ধাপ: পরিষ্কার কাপড় বা শুধু এককভাবে ব্যবহার করা হয় এমন তোয়ালে দিয়ে হাত মুছে নিতে হবে।

২. কতক্ষণ ধরে হাত ধুতে হবে?

অন্তত ২০ থেকে ৩০ সেকেন্ড সময় নিয়ে হাত ধোয়া উচিত। পর্যাপ্ত সময় দিয়ে হাত ধোয়া নিশ্চিত করতে হ্যাপি বার্থডে গানটি পুরোটা দুই বার গাওয়ার সময় নেওয়া যায়।

হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম অনুসরণ করতে হবে। কমপক্ষে ৬০ শতাংশ অ্যালকোহলসমৃদ্ধ স্যানিটাইজার নিয়ে অন্তত ২০ সেকেন্ড সময় ধরে তা হাতের পুরোটায় মাখাতে হবে।

৩. কখন হাত ধোয়া উচিত?

কোভিড-১৯ প্রতিরোধের ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত সময়গুলোতে হাত ধোয়া নিশ্চিত করতে হবে:

নাক ঝাড়া এবং হাঁচি ও কাশি দেওয়ার পর।

গণপরিবহন, বাজার বা উপাসনালয়ের মতো জনসমাগমস্থল ঘুরে আসার পর।

ঘরের বাইরের কোনো কিছু স্পর্শ করে, এমনকি টাকা ধরার পরেও।

কোনো অসুস্থ লোককে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় নেওয়ার আগে, নেওয়ার সময় এবং নেওয়ার পরে।

খাওয়ার আগে ও খাওয়ার পরে।

আর স্বাভাবিক অবস্থায় নিম্নোক্ত সময়গুলোতে হাত ধোয়া উচিত:

টয়লেট ব্যবহারের পরে।

খাওয়ার আগে ও পরে।

ময়লা-আবর্জনা হাতানোর পরে।

বাইরের পশু-প্রাণি এবং গৃহপালিত পশু-পাখি ধরার পরে।

শিশুর ডায়াপার বদলানো বা শিশুকে টয়লেট ব্যবহারে সহযোগিতা করার পরে।

যখন হাত নোংরা দেখাবে বা নোংরা বলে মনে হবে।

৪. ছেলে-মেয়েকে হাত ধোয়ায় কীভাবে সাহায্য করা যায়?

ছেলে-মেয়ের জন্য হাত ধোয়াটা সহজ করে তাদের এক্ষেত্রে সহযোগিতা করা যায়। তারা যাতে নিজেরাই সাবান নিতে পারে ও পানি নাগালের মধ্যে পায় সেজন্য একটি টুল বা চৌকি এনে দিতে হবে বেসিনের কাছে, যার উপর দাঁড়িয়ে তারা হাত ধুতে পারে। হাতে সাবান মাখিয়ে ভালোভাবে যাতে ঘষা হয় সেজন্য বিষয়টি তাদের কাছে আনন্দদায়ক করতে তাদের পছন্দের গান গেয়ে শোনানো যায়।

৫. হাত ধোয়ার জন্য কি গরম পানি দরকার?

না। হাত ধোয়ার জন্য যে কোনো তাপমাত্রার পানি হলেই চলবে। সাবান ব্যবহার করলে জীবাণুনাশের জন্য ঠাণ্ডা ও গরম উভয় পানিই সমান কার্যকর।

৬. হাত কি তোয়ালে দিয়ে মুছে শুকাতে হবে?

শুষ্ক ত্বকের চেয়ে ভেজা ত্বক থেকে জীবাণু সহজে ছড়ায়। তাই হাত পুরোপুরি শুকিয়ে নেওয়াটা গুরুত্বপূর্ণ। অন্য কোথাও জীবাণু ছড়ানোর আগে তা দূর করতে হাত পরিষ্কার কাপড়, টিস্যু বা ব্যক্তিগত ব্যবহার্য তোয়ালে দিয়ে মুছে শুকিয়ে নেওয়াই সর্বোত্তম।

৭. কোনটা বেশি ভালো: হাত ধোয়া নাকি হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করা?

সাধারণত সঠিকভাবে সাবান ও পানি দিয়ে হাত ধোয়া এবং হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করা উভয়ই বেশিরভাগ জীবাণু ধ্বংসের জন্য খুবই কার্যকর। ঘরের বাইরে থাকলে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করাটাই বেশি সহজ। তবে তা ব্যয়বহুল এবং জরুরি পরিস্থিতিতে সহজলভ্য নাও হতে পারে। অ্যালকোহলসমৃদ্ধ হ্যান্ড স্যানিটাইজার করোনাভাইরাস মেরে ফেললেও তা সব ধরনের ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস নির্মূল করে না। উদাহরণ হিসেবে বলা হয়, রোটাভাইরাস বা নোরোভাইরাসের ক্ষেত্রে এটা খুব একটা কার্যকর নয়।

৮. সাবান না থাকলে কী করতে হবে?

সাবান ও পানি না পাওয়া গেলে ক্লোরিনযুক্ত পানি বা অন্তত ৬০ শতাংশ হ্যান্ড স্যানিটাইজার সবচেয়ে ভালো বিকল্প। এগুলোও না পাওয়া গেলে যদি সাবান মিশ্রিত পানি বা ছাই পাওয়া যায় তাহলেও ব্যাকটেরিয়া দূর করতে তা ব্যবহার করা যেতে পারে, যদিও তার কার্যকারিতার মাত্রা কম। এভাবে হাত পরিষ্কার করলে, যত দ্রুত সম্ভব সাবান ও পানি দিয়ে হাত ধোয়ার সুযোগ পেলেই তা করতে হবে এবং সে পর্যন্ত হাত দিয়ে কোনো কিছু ধরা বা অন্যদের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলতে হবে।

৯. করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে আর কি ভূমিকা রাখতে পারি?

হাঁচি-কাশির শিষ্টাচার মেনে চলা: হাঁচি-কাশির সময় কোনুই বা টিস্যু দিয়ে নাক ও মুখ ভালোভাবে ঢাকতে হবে, ব্যবহৃত টিস্যু তাৎক্ষণিকভাবে ময়লার বিনে ফেলতে হবে এবং হাত ধুতে হবে।

নাক, চোখ, মুখে হাত দেওয়া বন্ধ করতে হবে।

অন্যদের থেকে দূরত্ব বজায় রাখা: করমর্দন, কোলাকুলি বা চুমু খাওয়া, খাবার ভাগাভাগি করে খাওয়া এবং বাসন, গ্লাস, কাপসহ ঘরের বিভিন্ন তৈজসপত্র পরিষ্কার না করা এবং গামছা-তোয়ালে একাধিক ব্যক্তির সাথে ব্যবহার বন্ধ করতে হবে।

ঠাণ্ডা বা জ্বরের উপসর্গ আছে এমন লোকের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলতে হবে।

নিজের বা সন্তানের জ্বর, কফ বা শ্বাসকষ্ট হলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

যেসব জায়গায় বাইরের মানুষ বা একাধিক ব্যক্তি আসেন বা ব্যবহার করেন সেগুলো বার বার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করতে হবে।

ক. এই ভাইরাস শরীরে ঢোকার পর সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দিতে কত দিন সময় লাগে?

১. ২ থেকে ১৪ দিন ২. ৫ থেকে ১০ দিন ৩. ১২ থেকে ২০ দিন

খ. কতক্ষণ সময় নিয়ে হাত ধোয়া উচিত?

১. ২০ থেকে ৩০ সেকেন্ড ২. ১০ থেকে ১৫ সেকেন্ড ৩. ৫ থেকে ১০ সেকেন্ড

উত্তরটি পাঠিয়ে দিন আমাদের ইনবক্সে

১. কোনো ফেক আইডি থেকে এই প্রতিযোগীতায় অংশ গ্রহণ করা যাবে না।

২. একটির বেশি আইডি থেকে প্রতিযোগীতা অংশ নেওয়া যাবে না।

৩. প্রত্যেকের আইডিতে পোস্টটি শেয়ার করতে হবে।

৪. শেয়ার করা পোস্টে ১০ জন বন্ধুকে ট্যাগ করতে হবে।

৫. প্রবাসী বাংলাদেশিরা অংশ নিতে পারবেন, কিন্তু প্যাকটি জিতলে তাদের দেশে পরিবারের কাছে দেওয়া হবে।

৬. এই প্রতিযোগীতাটি শুধুমাত্র বাংলাদেশিদের জন্য।

৭. এই প্রতিযোগীতার বিষয়ে দেহ কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত চুড়ান্ত।

৮. ১লা জুলাই থেকে ৭ই জুলাই ২০২০ বাংলাদেশ সময় রাত ১২টা পর্যন্ত উত্তর গ্রহণ করা হবে।

Leave your vote

Comments

0 comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *