in

মাঝবয়সের যত যন্ত্রণা

ডা. রাফিয়া আলম, হরমোন ও ডায়াবেটিস বিভাগ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

প্রকৃতির নিয়মেই বয়স বাড়ে। সেই সঙ্গে শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তনও অব্যাহত থাকে। ৪০ থেকে ৫০-এর কোঠায় নারীর শরীরে কয়েকটি স্বাভাবিক পরিবর্তন হয়। ধীরে ধীরে মাসিক বন্ধ হয়ে যায়। হরমোনজনিত কিছু পরিবর্তন ঘটে। এ সময় তাঁরা অস্বস্তিকর সমস্যায় পড়তে পারেন। যেমন: হঠাৎ প্রচণ্ড গরম লাগে, মাথার তালু গরম হয়, প্রচুর ঘাম হয়, ঘুমে সমস্যা, বিষণ্নতা দেখা দেয়, দাম্পত্য সম্পর্কে অস্বস্তি ইত্যাদি। তবে এসবের সমাধানও আছে।

* হঠাৎ প্রচণ্ড গরম লাগার প্রবণতা ধীরে ধীরে সেরে যেতে থাকে। অস্থির হবেন না। একটু ঠান্ডা পরিবেশে থাকতে চেষ্টা করুন। আস্তে আস্তে গভীর শ্বাসপ্রশ্বাস নিতে চেষ্টা করুন।

* খেয়াল করুন, ঠিক কোন বিষয়টি এ রকম গরম লেগে ওঠার সমস্যা বাড়িয়ে তোলে। চা-কফি বা মসলাদার খাবার, মানসিক চাপের প্রভাবে এমন সমস্যা বাড়তে পারে। সেটি এড়িয়ে চলুন।

* সুতি, ঢিলেঢালা, আরামদায়ক পোশাক পরুন। কয়েক প্রস্থ কাপড়ও পরতে পারেন। হঠাৎ গরম লেগে উঠলে দু-এক প্রস্থ কাপড় সরিয়ে দিন।

* প্রতিদিন হাঁটাহাঁটি, ব্যায়াম করুন। সুষম খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলুন।

* নিজের ওপর খুব বেশি চাপ রাখবেন না। আপনজন, বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে আনন্দময় সময় কাটান।

* পর্যাপ্ত ঘুম খুবই প্রয়োজনীয়। রাতে ঘুমানোর আগে বেশি কাজ রাখবেন না; ঘুমের আগে ভারী খাবার এড়িয়ে চলুন। নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমান এবং উঠুন। ঘুমের সময় ঘরটা নীরব, শান্ত ও অন্ধকার করে রাখুন। ঘুমের আগে এক কাপ কুসুম গরম দুধ খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। বিকেলের পর চা-কফি এড়িয়ে চলুন। দুপুরে ঘুমাবেন না।

* মাঝরাতে ঘুম ভেঙে গেলে যদি আর ঘুম না আসে, আরামদায়ক কিছু করতে থাকুন। যেমন: বই পড়ুন বা মৃদু আওয়াজে গান শুনুন।

* কারও কারও ভুলে যাওয়ার প্রবণতা দেখা দেয়। ঘুমিয়ে সতেজ হতে চেষ্টা করুন। ঘুম ঠিকঠাক হলে ভুলে যাওয়ার প্রবণতা আর থাকে না।

* বৈবাহিক জীবনে অস্বস্তি অনুভব করলে মাসিকের পথে ব্যবহারের উপযোগী জেল কিনে ব্যবহার করতে পারেন।

* এসবের পরও সমস্যা না কমলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। কার্যকর চিকিৎসাপদ্ধতি আছে।

What do you think?

DEHO

Written by DEHO

রোগ প্রতিরোধ এবং প্রতিকারের জন্য ওষুধের উপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে প্রাকৃতিক প্রতিষেধকগুলো সম্পর্কে ধারণা এবং এদের ব্যবহার জানা জরুরী। সঠিক খাদ্য নির্বাচন এবং ব্যায়াম অসুখ বিসুখ থেকে দূরে থাকার মূলমন্ত্র। রোগের প্রতিকার নয়, প্রতিরোধ করা শিখতে হবে। এই সাইটটির উদ্দেশ্য বাংলাভাষায় স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি করা। তবে তা কোন অবস্থাতেই চিকিৎসকের বিকল্প হিসাবে নয়। রোগ নির্ণয় এবং তার চিকিৎসার জন্য সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Loading…

0

রগের যত সমস্যা

প্রেমিকের মন খারাপ হলে কী করবেন?