in

মাটির নিচের সবজি ভালো না মন্দ?

আখতারুন নাহার, পুষ্টিবিদ

মাটির নিচে ফলে এমন অনেক সবজি আমরা খাই। সেগুলো মুখরোচকও বটে। কেউ কেউ বলেন, এমন সবজি বেশি বেশি খেতে নেই। কারণ এসব খেলে শর্করা ও ইউরিক অ্যাসিড গ্রহণের মাত্রা বাড়ে, বাত হয় ইত্যাদি। এ বিষয়ে কিছু তথ্য:

* আলু

মাটির নিজের সবজির মধ্যে আলু সবচেয়ে জনপ্রিয়। প্রায় সব দেশের মানুষ আলু খায়। এতে আছে উচ্চমানের শর্করা, প্রচুর পুষ্টি। ভিটামিন ‘এ’ ও ভিটামিন ‘ডি’ ছাড়া প্রয়োজনীয় সব রকমের ভিটামিন ও খনিজ উপাদান আলুতে কম-বেশি পাওয়া যায়। খাদ্যমানের দিক থেকে যব, আটা ইত্যাদির চেয়েও বেশি শর্করা ও পুষ্টি মেলে এই সবজিতে। তবে এটা ঠিক, আলুর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স একটু বেশি। এটি বেশি পরিমাণে খেলে ডায়াবেটিসের রোগীর শরীরে শর্করার মাত্রা বাড়তে পারে।

* মিষ্টি আলু

মিষ্টি আলু মিষ্টি হলেও এর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স সাধারণ আলুর চেয়ে কম। কারণ মিষ্টি আলুর মধ্যে আঁশ বা ফাইবার বেশি পরিমাণে থাকে। এই আঁশের কারণে মিষ্টি আলুর শর্করা আমাদের র’ক্তে মিশতে সময় লাগে। প্রচুর আঁশ ছাড়াও মিষ্টি আলু ভিটামিন ‘এ’ ও বিটা ক্যারোটিনের চমৎকার উৎস। এই সবজির পুষ্টিমানও অনেক।

* গাজর

গাজরে বিটা ক্যারোটিন, ভিটামিন ‘এ’, ভিটামিন সি ইত্যাদির সমাহার রয়েছে। চোখের স্বাস্থ্য রক্ষায় এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে এই সবজি বিশেষ কার্যকর। গাজরে শর্করা অতটা বাড়ে না।

* বিট

ভিটামিন ‘সি’ ও বিটা ক্যারোটিন সমৃদ্ধ বিট খেলে শক্তি ও উদ্দীপনা বাড়ে। এতে নাইট্রেট আছে বলে র’ক্তনালি ও হৃদ্যন্ত্রের জন্যও ভালো।

* শালগম ও মুলা

মুলা ও শালগমে প্রচুর ফলিক অ্যাসিড আছে, যা অন্তঃসত্ত্বার খাওয়া উচিত। এতে আছে অনেক আঁশ এবং প্রচুর ভিটামিন ‘সি’।

মাটির নিচে যেসব সবজি ফলে, তাতে শর্করা স্টার্চ হিসেবে থাকে, যা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। এগুলোতে প্রচুর পরিমাণে আঁশ রয়েছে, যা পরিপাকতন্ত্রের জন্য উপকারী। এসব সবজিতে ভিটামিন ‘এ’, ভিটামিন ‘সি’, ভিটামিন ‘বি৬’, বিটা ক্যারোটিন ও পটাশিয়াম বেশি পরিমাণে থাকে। বেশি পিউরিন-সমৃদ্ধ খাবারে ইউরিক অ্যাসিড বাড়তে পারে। কিন্তু উল্লিখিত সবজিগুলোতে পিউরিন বেশি নেই। তাই বাতের ব্যথার রোগীদের এসব সবজি খেতে বাধা নেই।

What do you think?

DEHO

Written by DEHO

রোগ প্রতিরোধ এবং প্রতিকারের জন্য ওষুধের উপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে প্রাকৃতিক প্রতিষেধকগুলো সম্পর্কে ধারণা এবং এদের ব্যবহার জানা জরুরী। সঠিক খাদ্য নির্বাচন এবং ব্যায়াম অসুখ বিসুখ থেকে দূরে থাকার মূলমন্ত্র। রোগের প্রতিকার নয়, প্রতিরোধ করা শিখতে হবে। এই সাইটটির উদ্দেশ্য বাংলাভাষায় স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি করা। তবে তা কোন অবস্থাতেই চিকিৎসকের বিকল্প হিসাবে নয়। রোগ নির্ণয় এবং তার চিকিৎসার জন্য সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Loading…

0

শিশুকে খাওয়াতে কত সময় দেন?

বিয়ের আগে দুই পরিবারের জানাবোঝা