in

র’ক্তচাপের অস্বাভাবিক ওঠানামা

ডা. শরদিন্দু শেখর রায়, হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল

দিনের বিভিন্ন সময়, দৈনন্দিন কাজকর্ম, খাওয়া-ঘুম-বিশ্রাম ও কিছু অভ্যাসের সঙ্গে আমাদের র’ক্তচাপের মাত্রা ওঠানামা করতে পারে। মধ্যরাতে ঘুমের মধ্যে র’ক্তচাপ সবচেয়ে কম থাকে, বাড়তে শুরু করে সকালবেলা।

দুপুর, বিকেলে সর্বোচ্চ মাত্রায় পৌঁছায় আবার সন্ধ্যা থেকে কমতে শুরু করে। এই ওঠানামার একটা নির্দিষ্ট মাত্রা আছে, যা সিস্টোলিক ১০-১৫ মিমি পারদ বা ডায়াস্টোলিক ৫-১০ মিমি পারদের বেশি কখনোই নয়। আসুন জেনে নিই, কোন কোন ক্ষেত্রে র’ক্তচাপের অস্বাভাবিক ওঠানামা হতে পারে:

 সবচেয়ে সাধারণ কারণ হলো র’ক্তচাপের ওষুধ অনিয়মিত বা যখন-তখন সেবন করা। এ ছাড়া হঠাৎ করে স্টেরয়েড, ব্যথানাশক, জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি ইত্যাদি সেবন করলে র’ক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে।

 অতিরিক্ত লবণ ও লবণাক্ত খাবার বেশি খেয়ে ফেললে র’ক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে।

 আকস্মিক মানসিক উত্তেজনা, উদ্বেগ, নির্ঘুম র’ক্তচাপ বাড়িয়ে দিতে পারে।

 অত্যধিক চা, কফি, ধূমপান, মাদকদ্রব্য র’ক্তচাপের ওপর প্রভাব ফেলে।

 গর্ভকালীন অবস্থায় কারও র’ক্তচাপ বাড়তে পারে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এটা সাময়িক। আবার গর্ভকালীন প্রথম পাঁচ মাস র’ক্তচাপ একটু কম থাকা স্বাভাবিক। বয়স্ক ব্যক্তি, রোগে ভোগা মানুষ, বমির পর ডায়রিয়া, বিশ্রামের ঘাটতি, অনিদ্রা, পানিশূন্যতার কারণে র’ক্তচাপ কমে যেতে পারে।

 কারও কারও চিকিৎসকের কাছে গেলেই র’ক্তচাপ অন্য রকম পাওয়া যায়। একে হোয়াইট কোট হাইপারটেনশন বলে। আবার অনেকে বাড়িতে ভুল পদ্ধতিতে র’ক্তচাপ মাপেন, ফলে বিভ্রান্ত হন।

 ডায়াবেটিক রোগীদের বসা বা শোয়া থেকে উঠে দাঁড়ালে র’ক্তচাপ আকস্মিক কমে যেতে পারে ও মাথা ঘোরে।

কী করবেন?

র’ক্তচাপ খুব বেশি ওঠানামা করছে মনে হলে নিয়মিত বিরতিতে র’ক্তচাপ মেপে এক সপ্তাহের একটা তালিকা তৈরি করুন। দিনের বিভিন্ন সময় সঠিক পদ্ধতিতে সঠিক একটি যন্ত্র দিয়ে মাপুন।

সিস্টোলিক র’ক্তচাপ ১০-১৫ মিমি ও ডায়াস্টোলিক ৫-১০ মিমির বেশি ওঠানামা করলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। প্রয়োজনে চিকিৎসক ২৪ ঘণ্টা টানা র’ক্তচাপ মাপার যন্ত্র ব্যবহার করে নিশ্চিত হবেন।

 চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কখনোই (৯০/৬০-এর নিচে নামা ছাড়া) হঠাৎ করে ওষুধ বন্ধ করে দেবেন না। র’ক্তচাপ কমের দিকে থাকলে ওষুধের মাত্রা পরিবর্তন বা ওষুধ পরিবর্তনের জন্য চিকিৎসকের সাহায্য নিন।

 ঘুম, বিশ্রাম, খাবার ও ব্যায়ামের ক্ষেত্রে নিয়ম মেনে চলুন। অতিরিক্ত চা, কফি এড়িয়ে চলুন। হাঁটা বা ব্যায়ামের অন্তত আধা ঘণ্টা পর বিশ্রাম নিয়ে র’ক্তচাপ মাপবেন। সন্দেহের বশবর্তী হয়ে বারবার যন্ত্র দিয়ে র’ক্তচাপ মাপবেন না, এতে টেনশন আরও বাড়বে।

What do you think?

DEHO

Written by DEHO

রোগ প্রতিরোধ এবং প্রতিকারের জন্য ওষুধের উপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে প্রাকৃতিক প্রতিষেধকগুলো সম্পর্কে ধারণা এবং এদের ব্যবহার জানা জরুরী। সঠিক খাদ্য নির্বাচন এবং ব্যায়াম অসুখ বিসুখ থেকে দূরে থাকার মূলমন্ত্র। রোগের প্রতিকার নয়, প্রতিরোধ করা শিখতে হবে। এই সাইটটির উদ্দেশ্য বাংলাভাষায় স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি করা। তবে তা কোন অবস্থাতেই চিকিৎসকের বিকল্প হিসাবে নয়। রোগ নির্ণয় এবং তার চিকিৎসার জন্য সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Loading…

0

এখনকার তরুণেরা প্রেম করছেন কম!

আপনার শিশুটি বাড়ছে তো?