রোজায় সুস্থ থাকতে করনীয়

রোজায় সুস্থ থাকতে আপনাকে সাহায্য করবে যে ১০ টি কাজ

রোজায় সুস্থ থাকতে চাই সচেতনতা। ধর্মীয় রীতিনীতির পাশাপাশি শারীরিক সুস্থতাও রমজানের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, রোজা রাখলে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে ও মানসিক সুস্থতা বৃদ্ধি পায়। এই সময়ে সেহরি ও ইফতারে খাবার এবং প্রতিদিনের কিছু অভ্যাস নিয়ে আমাদের সচেতন থাকতে হবে।

দেহ’ সবসময়ই আপনাদের সুস্থতা নিয়ে ভাবে। তাই রোজায় সুস্থ থাকতে যে ১০টি কাজ আপনাকে করতেই হবে, সে বিষয়গুলো নিয়ে আজকের এই লেখা। প্রতিটি পয়েন্টই মনোযোগ সহকারে পড়বেন বলে আশা করছি। চলুন শুরু করা যাক।

১. রোজায় সুস্থ থাকতে সেহরি খাওয়া জরুরি

রোজায় সুস্থ থাকার মূল চাবিকাঠি হল স্বাস্থ্যসম্মত সেহরি করা। বেশি করে শাকসবজি, প্রোটিন ও পানি পান করতে হবে। কিন্তু অতিরিক্ত খাওয়া যাবে না। আঁশ জাতীয় খাবার খেলে এগুলো আস্তে আস্তে হজম হয়। খিদে কম লাগে। শরীর সতেজ ও সুস্থ থাকে।

২. পর্যাপ্ত ঘুম রোজায় সুস্থ থাকতে সাহায্য করে

রোজায় সুস্থ থাকতে দরকার পর্যাপ্ত ঘুম, কিন্তু সারাদিন নয়। অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমাতে হবে। এর কম ঘুমলে দুর্বল লাগবে, এমনকি রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাও কমে যেতে পারে। আর উল্লেখ করা জরুরি যে, ঘুম হজমে সহায়তা করে।

৩. রোজায় সুস্থ থাকতে পানি পান করুন

রোজায় সুস্থ থাকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল পানি পান করা। ইফতার এবং সেহরির মাঝখানের সময়ের ভিতর কম করে হলেও ২.৫-৩ লিটার পানি পান করতে হবে। ইফতারের সময় বিভিন্ন ফলের জুস রাখতে হবে। এতে করে সুস্থ থাকার চান্স অনেক বেড়ে যাবে।

৪. শারীরিক পরিশ্রম কম করা জরুরি

সুস্থ থাকতে হলে কায়িক পরিশ্রমের দরকার আছে। কিন্তু রোজায় একটু কম করতে হবে। পরিশ্রম করলে ঘামের সাথে দেহ থেকে পানি বের হয়ে যায়। রোজায় সেটা ক্ষতিকর। তাই সীমিত পরিমাণ কাজ করলে আপনি সুস্থ থাকবেন।

৫. ভাজাপোড়া এড়িয়ে চলুন

তৈলাক্ত খাবার যত কম খাবেন তত সুস্থ থাকতে পারবেন। ভাজাপোড়া খাবার খেলে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হতে পারে। ইফতারে তাই এইসবের পরিবর্তে দই, চিড়া,কলা অনেক সময় খিচুড়িও রাখা যেতে পারে। বিশেষ করে খেজুর খেতে হবে, এতে অনেক শর্করা থাকে।

৬. দরকার ছাড়া বাইরে না যাওয়া

গরমের ভিতর রোজা রাখা এমনিতেই কঠিন। তাই বাইরের রোদে যত পারেন কম যাবেন। আর যদি যেতেই হয় অবশ্যই ছাতা নিয়ে যাবেন। যাতে করে রোদে আপনাকে ক্লান্ত করে দিতে না পারে।

৭. বাইরের পানীয় খাবার ত্যাগ করুন

বাইরের পানীয় খাবার ত্যাগ করুন, বিশেষ করে চা, কফি, বিভিন্ন ধরনের কোমল পানীয় যেমন পেপসি, কোক, ডিউ ইত্যাদি ত্যাগ করুন। সেই সাথে ধূমপান ছেড়ে দিন। সুস্থ থাকবেন।

৮. পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকুন

সুস্থ থাকতে হলে আপনাকে থাকতে হবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। ধূলা-বালি, হাঁচি-কাশি থেকে ভাইরাস জ্বর হয় তাই সাবধান থাকুন। সেহরির পর এবং রাতে ঘুমানোর আগে দাঁত ব্রাশ করুন।

৯. ধীরে সুস্থে খাবার খান

কম করে আস্তে আস্তে খাবার খাবেন। অনেকেই ইফতারের সময় প্রচুর পরিমাণে খায়। এই কাজটি একদমই করবেন না। প্রথমে খেজুর পরে শরবত বা অন্য পানীয় দিয়ে ইফতার করবেন। এতে আপনার শরীর সুস্থ থাকবে।

১০. ওষুধ সেবন

ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের রোজার আগেই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে এবং সেই অনুযায়ী ওষুধ খেতে হবে। নিয়মিত সুগার টেস্ট ও ব্লাড প্রেশার মাপতে হবে।

সুস্থতা মহান আল্লাহ্‌র অনেক বড় নিয়ামত। এই পরামর্শগুলো যদি আপনারা রোজায় নিয়মিত ফলো করেন, ইনশাআল্লাহ্‌ পুরো রোজাতেই সুস্থ থাকতে পারবেন। আর অবশ্যই এই পরামর্শগুলো আপনাদের বন্ধুদের সাথে শেয়ার করে তাদেরও সুস্থ থাকতে উৎসাহ দিন।

Leave your vote

Comments

0 comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *