শরীরের ওজন কমে যাওয়া

শরীরের ওজন হঠাৎ কমে যাওয়ার যে ৬টি কারণ আপনার জেনে রাখা জরুরি

শরীরের ওজন কমানোর জন্য কতই না ব্যবস্থা নেই আমরা। কিন্তু যদি কোনো কারণ ছাড়া শরীরের ওজন কমতে থাকে, তাহলে তা অবশ্যই উদ্বেগের বিষয়। ৬ মাস থেকে ১ বছরের মধ্যে শরীরের ওজন শতকরা ৫ ভাগ কমে গেলে তা বিশেষ কোনো রোগের লক্ষণ হতে পারে।

ডায়েট কনট্রোল, ব্যায়াম বা ওষুধ ছাড়াই যদি আকস্মিক ওজন কমতে থাকে তবে তার কারণ খুঁজে বের করতে হবে। ‘দেহ’ আজ সেই কারণগুলো খুঁজে বের করবে। কোন কোন শারীরিক অবস্থায় হঠাৎ ওজন কমে যেতে পারে তা নিয়ে আলোচনা করবো আমরা। চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক।

১. শরীরের ওজন নির্ভর করে খাদ্যাভ্যাসের উপর

আমরা যদি ব্যালেন্স ডায়েট গ্রহণ করি, তাহলে ওজন ঠিক থাকে। কিন্তু পরিমিত খাদ্য গ্রহণ না করলে স্বাভাবিক ভাবেই ওজন কমে যায়। অ্যানোরেক্সিয়া নার্ভোসা, বুলেমিয়া নার্ভোসা এসব মানসিক রোগে যারা ভোগেন তাদের ক্ষেত্রে ওজন কমে যাওয়ার সমস্যা দেখা যায়। বিশেষত ২০ বছরের কাছাকাছি বয়সের মেয়েদের মধ্যে এ সমস্যা প্রকট। অ্যানোরেক্সিয়া নার্ভোসা হচ্ছে এমন ইটিং ডিসঅর্ডার যখন ব্যক্তির ওজন বেড়ে যাওয়ার ভয়ে খাদ্য গ্রহণ একদম কমিয়ে দেয়। বুলেমিয়া নার্ভোসা হচ্ছে অতিরিক্ত খেয়ে খাবার বমি করে ফেলা। এই দুটি সমস্যার কারণে শরীরের ওজন হঠাৎ করে অনেক কমে যায়। উক্ত দুটি অবস্থাই জীবনের জন্য হুমকি স্বরূপ হতে পারে।

২. মানসিক চাপ শরীরের ওজন কমায়

হঠাৎ ওজন কমে যাওয়ার অন্যতম একটি কারণ হলো মানসিক চাপ ও উদ্বিগ্নতা। কাজের চাপ বা ব্যক্তিগত জীবনে মানসিক চাপ থেকে বের হতে না পারলে ওজন কমা সহ আরা নানা রকম শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়। যেমন- মাথা ঘোরা, শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা ইত্যাদি। ডিপ্রেশনেও হঠাৎ ওজন কমে যেতে দেখা যায়। এধরনের রোগীরা সবসময় বিষণ্ণ ও উদ্বিগ্ন থাকেন। এদের ক্ষুধা হ্রাস পায় এবং হজমের সমস্যায় ভোগেন। ফলে ওজন কমতে থাকে।

৩. হরমোন জনিত রোগ

থাইরয়েড গ্রন্থির রোগ ‘হাইপারথাইরয়েডিজম’ হলে ওজন কমে একদম শুকিয়ে যায় মানুষ। এসব রোগীর খাবারে রুচি ভালো থাকে এবং তারা বেশি খাওয়া সত্ত্বেও ওজন কমতে থাকে। থাইরয়েড হরমোন বেশি থাকার কারণে রোগীর শরীরের বিপাক ক্রিয়ার হার বেড়ে যায়। খাদ্য বেশি বিপাক হয়ে অতিরিক্ত তাপ উৎপন্ন করে। ওজন কমার পাশাপাশি ক্ষুধা বেশি লাগা, গরম অনুভূত হওয়া, হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া প্রভৃতি সমস্যা দেখা দেয় হাইপারথায়রয়েডিজমে।

এডিসন ডিজিজ নামক অ্যাড্রেনাল গ্রন্থির রোগেও ওজন কমে যায় অনেক সময়। খাদ্যে অরুচি, বমি হওয়া এসব কারণে ওজন কমে এক্ষেত্রে। ওজন কমার পাশাপাশি চুল পরে যাওয়া, মহিলাদের শারীরিক মেলামেশার আকাঙ্ক্ষা কমে যাওয়া প্রভৃতি সমস্যা দেখা যায় এডিসন ডিজিজে।

৪. ডায়াবেটিসেও শরীরের ওজন কমে

হঠাৎ করে ওজন কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ হলো টাইপ-ওয়ান ডায়াবেটিস। শিশু, যুবক ও ত্রিশ বছরের কম বয়সী মানুষের এ ধরনের ডায়াবেটিস হয়ে থাকে। এই ডায়াবেটিসে ইনসুলিনের অভাবে শরীর শক্তি হিসেবে পর্যাপ্ত গ্লুকোজ গ্রহণ করতে পারে না। শরীর তখন শক্তির জন্য জমা থাকা চর্বি ও মাংশপেশী ভাঙতে থাকে। সেজন্য ওজন কমে যায়।

৫. দীর্ঘস্থায়ী অসুখ

হজমে গোলমাল বা অন্ত্রের দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার কারণে ওজন কমে যেতে পারে।দীর্ঘদিনের ডায়রিয়া বা আমাশয়, আইবিএস, সিলিয়াক ডিজিজ, অন্ত্রের প্রদাহ, যকৃতের রোগ, অগ্ন্যাশয়ের রোগ এসব ওজন কমার কারণ। আমাদের দেশে যক্ষ্মা রোগের প্রকোপ অনেক বেশি। যক্ষ্মা রোগ ওজন কমার অন্যতম প্রধান কারণ। এছাড়াও কালাজ্বর, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, এইডস, ফুসফুসের নানাবিধ সমস্যা, পারকিনসন্স ডিজিজ রোগ গুলোতেও রোগে ওজন কমে যায়।

৬. ক্যান্সার শরীরের ওজন কমে

যে কোন ক্যান্সারের প্রধানতম লক্ষণ হতে পারে হঠাৎ অকারণে ওজন হ্রাস পাওয়া। ফুসফুস, পাকস্থালী, অন্ননালী, যকৃতের ক্যান্সার, রক্তের ক্যান্সার প্রতিটির ক্ষেত্রেই দ্রুত ওজন কমার লক্ষণ দেখা যায়। ক্যান্সার কোষের সাথে যুদ্ধ করার জন্য শরীর সাইটোকিন নামক এক ধরনের রাসায়নিক নিঃসরণ করে। একারণে খাদ্যে রুচি কমে যায়, মাংসপেশি ক্ষয় হয়। সর্বোপরি ওজন কমে যায় অনেক দ্রুত।

আপনি যদি আশঙ্কাজনক হারে ওজন হারান, তাহলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। এছাড়া সুষম খাদ্য, যথেষ্ট বিশ্রাম ও ঘুম, পরিমিত ব্যায়াম, মানসিক স্বাস্থ্যোন্নতি ইত্যাদির মাধ্যমে সুস্থ থাকার চেষ্টা করুন। লেখাটি আপনাদের ভালো লাগলে শেয়ার করুন। ধন্যবাদ দেহ’র সাথে থাকার জন্য।

Leave your vote

Comments

0 comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *