জ্বালাপোড়া থেকে মুক্তি পাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ কিছু টিপস যা আপনাকে স্বস্তি দেবে

জ্বালাপোড়া থেকে মুক্তি পাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ কিছু টিপস যা আপনাকে স্বস্তি দেবে

শরীর জ্বালাপোড়া করার মত অস্বস্তিকর আর কিছু হয় হয় না। আমাদের অনেকেই এই সমস্যায় ভুগছেন। নানা কারণে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জ্বালাপোড়া সৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ করে এই গরমে জ্বালাপোড়া একটু বেশি হয়।

সব সমস্যারই সমাধান থাকে। তেমনি বিশেষ কিছু পদ্ধতি অবলম্বন করলে খুব সহজেই এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। আজ ‘দেহ’ আপনাদের সামনে উপস্থাপন করতে যাচ্ছে, শরীরের কোথাও জ্বালাপোড়া হলে তার সমাধান কী। আসুন জেনে নেই বিস্তারিত।

১. বুক জ্বালাপোড়া

ভারী খাবার খেলে, অসময়ে খেলে বুকের ভেতর থেকে গলা পর্যন্ত জ্বালাপোড়ার সৃষ্টি হয়। বেশি মশলাযুক্ত খাবার, এছাড়া খাওয়ার সাথে সাথে চিত হয়ে শুয়ে পরলেও এই সমস্যা দেখা যায়। মূলত এই সমস্যার মূলে রয়েছে অ্যাসিডিটি।

উপসর্গ
১. বুক জ্বালাপোড়া
২. বুকে ব্যথা হওয়া
৩. টক ঢেকুর ওঠা
৪. পেটের ঠিক ওপরের দিকে কিছুটা ব্যথা অনুভব হওয়া
৫. গলার ভেতরের দিকে টক, ঝাল বা লবণাক্ত কিছু তরল এর উপস্থিতি।

করণীয়
১. যেসব খাবার খেলে এই সমস্যা সৃষ্টি হয় সেগুলো বর্জন করতে হবে
২. কম তেল ও মশলাযুক্ত খাবার খেতে হবে
৩. টক জাতীয় খাবার বেশি খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে
৪. এক সাথে খুব বেশি পরিমাণে খাবার খাওয়া যাবে না এবং খাওয়ার সাথে শুয়ে পরা যাবে না
৫. ওজন ঠিক রাখার চেষ্টা করতে হবে
৬. খুব বেশি সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

২. চোখ জ্বালাপোড়া

চোখ জ্বালাপোড়া করলে কোন কিছুই যেন ভালো লাগে না। সাধারণত চোখ শুষ্ক হয়ে এই সমস্যাটি দেখা দেয়। কম্পিউটার বা মোবাইল ফোনের দিকে একটানা তাকিয়ে থাকলে এই সমস্যা তৈরি হয়। এর বাইরেও চোখে ধুলোবালি পরলে, ঘরে বা কর্মস্থলে এসি থাকলে এই সমস্যা দেখা যায়। তাছাড়া কনজাঙ্কটিভাইটিস এবং চোখের অ্যালার্জি এর কারণেও এটি হয়ে থাকে।

উপসর্গ
১. চোখ চুলকানো
২. চোখ দিয়ে পানি পড়া
৩. চোখ লাল হয়ে যাওয়া
৪. চোখ ব্যথা করা
৫. চোখ ভুলে যাওয়া।

করণীয়
১. হঠাৎ করে চোখ জ্বালাপোড়া করলে চোখে ঠাণ্ডা অথবা গরম পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলতে হবে
২. কম্পিউটার বা মোবাইল ফোনের দিকে বেশিক্ষণ তাকিয়ে থাকা যাবে না
৩. প্রয়োজনে চোখের ড্রপ ব্যবহার করতে হবে
৪. এসি ব্যবহারে সতর্ক থাকবেন
৫. বেশি সমস্যা দেখা দিলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

৩. মুখের জ্বালাপোড়া

একে বার্নিং মাউথ সিনড্রোমও বলা হয়। এর কারণে পুরো মুখ, ঠোট, জিহ্বা, তালু সবকিছুতেই জ্বালাপোড়া ও তার সাথে ব্যথা হতে পারে। সাধারণত মহিলাদের মেনোপজের পরে এই রোগ বেশি দেখা যায়।

উপসর্গ
১. মুখ, গলা এবং জিহ্বায় জ্বালাপোড়া
২. মুখ শুষ্ক হয়ে যাওয়া
৩. মুখের আশেপাশে পুড়ে যাওয়া
৪. মুখের স্বাদের পরিবর্তন হওয়া।

করণীয়
১. প্রচুর পানি পান করতে হবে
২. মশলাযুক্ত খাবার গ্রহণে বিরত থাকতে হবে
৩. ধূমপান ত্যাগ করতে হবে
৪. দুশ্চিন্তা বাদ দিতে হবে
৫. বেশি সমস্যা হলে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

৪. প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া

মূত্রতন্ত্রে জীবাণুর সংক্রমণ হলে তাকে বলা হয় ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন। এই সমস্যাটি প্রধানত নারীদের মধ্য দেখা যায়। গরমের দিনে এই সমস্যাটি প্রকট আকার ধারণ করে।

উপসর্গ
১ ঘন ঘন প্রস্রাব
২ প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া
৩ তলপেটে ব্যথা হওয়া
৪ প্রস্রাবে বাজে গন্ধ হওয়া
৫ বমি ভাব
৬ প্রস্রাব হলুদ বা লালচে হওয়া।

করণীয়
১. প্রচুর পানি পান করতে হবে
২. প্রস্রাব আটকে রাখা যাবে না
৩. ভিটামিন সি জাতীয় খাবার গ্রহণ করা
৪. পরিষ্কার পরিছণ্ন থাকা
৫. বেশি সমস্যা হলে ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে।

৫. মাথা জ্বালাপোড়া

মাথার মধ্য অসহ্য যন্ত্রণা ও জ্বালা হলে তাকে বলা হয় মাথা জ্বালাপোড়া। মেয়েরা এই মাথা যন্ত্রণায় বেশি ভুগে। আমাদের দেশে প্রচুর মানুষ এই সমস্যা নিয়ে ডাক্তারদের কাছে ভীড় জমায়।

উপসর্গ
১. প্রচণ্ড ব্যথা হওয়া
২. ঘুম না হওয়া
৩. বমি বমি ভাব
৪. মাথা ভারী হওয়া
৫. কপালে ব্যথা।

করণীয়
১. পর্যাপ্ত ঘুমানো
২. বেশি করে পানি পান করা
৩. বেশি দুচিন্তা না করা
৪. চোখের সমস্যা হলে চশমা ব্যবহার করা
৫. খুব বেশি সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া।

৬. পায়ে জ্বালাপোড়া

পায়ের অসহ্য জ্বালা যন্ত্রণাকে পায়ে জ্বালাপোড়া বলে। ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের এই সমস্যা বেশি দেখা যায়। অ্যালার্জিজনিত কারণেও এটি হতে পারে। এছাড়া ত্রুটিপূর্ণ জুতা ব্যবহারের ফলেও এই সমস্যা দেখা দেয়।

উপসর্গ
১. ঘাম হওয়া
২. পায়ে জ্বালাপোড়া ও ব্যথা হওয়া
৩. পায়ের রং পরিবর্তন হওয়া
৪. পা অবশ হওয়া
৫. রাতে জ্বালাপোড়া বেড়ে যাওয়া
৬. পা ফুলে যাওয়া।

করণীয়
১. আরামদায়ক জুতা পড়তে হবে
২. পায়ের ব্যায়াম করতে হবে
৩. ধূমপান ত্যাগ করতে হবে
৪. ভিটামিন সেবন করতে হবে
৫. অবস্থা বেশি খারাপ হলে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

কমবেশি সবার ক্ষেত্রেই এই সমস্যা দেখা যায়। সমস্যা শুরু হওয়ার সাথে সাথে যদি আমাদের পরামর্শগুলো অনুসরণ করেন তাহলে আপনার জ্বালাপোড়া দ্রুত কমে যাওয়ার কথা। আর খুব বেশি সমস্যা দেখা দিলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিন। সঠিক চিকিৎসায় আপনি সুস্থ হয়ে উঠবেন।

Leave your vote

Comments

0 comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *