in

হঠাৎ শিশু নীরব

ডা. মো. রশিদুল হক, মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

যে শিশুটি সারা দিন কথা বলে আর প্রশ্ন করে সবাইকে ব্যতিব্যস্ত করে তোলে, মিনিটে মিনিটে মা-বাবা-দাদু-নানুকে ডাকে মধুর সুরে, সেই শিশু হঠাৎ করেই চুপচাপ, গম্ভীর বা নীরব হয়ে গেলে তা দুশ্চিন্তার বিষয় বৈকি। এমন অবস্থায় মা-বাবা ঠিক কী করবেন বুঝে উঠতে পারেন না। সন্তানকে কথা বলার জন্য চাপ দেওয়া থেকে শুরু করে তাবিজ-কবচ, ঝাড়-ফুঁক অনেক কিছুতেই গড়ায় এসব।

এমন পরিস্থিতিতে মা-বাবাকে জানতে হবে করণীয় কী। শিশু অনেক কারণেই কথা বলা বন্ধ করে দিতে পারে। যেমন

১. কিছু কিছু পরিবেশে এবং অপরিচিত মানুষের সামনে শিশু চুপচাপ থাকে কিন্তু বাড়িতে হইচই করে সবার সঙ্গে কথা বলে। সামাজিক উদ্বেগ এর জন্য দায়ী

২. মানসিক চাপে অনেক শিশু অবচেতনভাবে চুপচাপ হয়ে যায়, যদিও তাদের মস্তিষ্কে কোনো রোগ নেই

৩. সামাজিক ভয়

৪. কানের সমস্যা: শিশুর কানে শুনতে সমস্যা থাকলে

৫. কাছের কেউ মারা গেলে শোকে শিশু চুপচাপ হয়ে যায়

৬. শারীরিক, মানসিক বা যৌন নির্যাতনের শিকার হলে শিশু চুপচাপ হয়ে যেতে পারে

৭. গুরুতর বুদ্ধিপ্রতিবন্ধিতা

৮. অটিজম

৯. সিজোফ্রেনিয়া

১০. মৃগীরোগ

১১. যোগাযোগের সমস্যা

১২. নতুন দেশে নতুন ভাষায় শিশু ভাষাহীন হয়ে যেতে পারে

এ পরিস্থিতিতে মা-বাবা ভেঙে না পড়ে বোঝার চেষ্টা করুন শিশুটি কোনো মানসিক আঘাত, নতুন পরিবেশ বা মানসিক চাপের সম্মুখীন হয়েছে কি না। তার সঙ্গে কথা বলুন। প্রয়োজনে চিকিৎসকের সাহায্য নিন। সন্তানকে জবরদস্তি বা চাপ দিয়ে কথা বলানোর চেষ্টা করবেন না। কথা বলার সব চাপ দূর করতে হবে। তাকে বোঝাতে হবে, মা-বাবা হিসেবে আপনি তার কষ্ট, দুশ্চিন্তা বুঝতে পারছেন এবং তাকে সাহায্য করতে চেষ্টা করছেন।

ভালো গুণগুলোকে উৎসাহিত করুন। শিশুর আত্মমর্যাদা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করুন, বন্ধুবান্ধব বা স্বজনদের সামনে সন্তানের ভালো গুণগুলোর প্রশংসা করুন। ধীরে ধীরে শিশুকে সামাজিক পরিবেশে বন্ধুবান্ধব পরিচিতজনদের সঙ্গে মিশতে সহযোগিতা করতে চেষ্টা করুন। কানে শুনতে সমস্যা হলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

মনে রাখবেন, প্রতিটি শিশুই অনন্য বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। প্রতিটি শিশুর চিকিৎসা পরিকল্পনা ভিন্ন ভিন্ন। মানসিক রোগজনিত বা মনস্তাত্ত্বিক কারণে শিশু চুপচাপ বা কথা বলা বন্ধ করল কি না, তা নির্ণয়ে মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।

What do you think?

DEHO

Written by DEHO

রোগ প্রতিরোধ এবং প্রতিকারের জন্য ওষুধের উপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে প্রাকৃতিক প্রতিষেধকগুলো সম্পর্কে ধারণা এবং এদের ব্যবহার জানা জরুরী। সঠিক খাদ্য নির্বাচন এবং ব্যায়াম অসুখ বিসুখ থেকে দূরে থাকার মূলমন্ত্র। রোগের প্রতিকার নয়, প্রতিরোধ করা শিখতে হবে। এই সাইটটির উদ্দেশ্য বাংলাভাষায় স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি করা। তবে তা কোন অবস্থাতেই চিকিৎসকের বিকল্প হিসাবে নয়। রোগ নির্ণয় এবং তার চিকিৎসার জন্য সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Loading…

0

জ্বরের সঙ্গে ফুসকুড়ি মানেই কি হাম?

দেশি ফলেও আছে পুষ্টি